সরকারি সম্পদের অপচয় রোধ করতে সব প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আগে প্রচলন ছিলো ‘সরকারি মাল দরিয়াতে ঢাল’। এটা অনেকটাই দূর হয়েছে। সম্পদ জনগণের। তা অপচয় না করে তাদের কাছে পৌঁছানোই সরকারের লক্ষ্য। সবাই তাতে সহযোগিতা করবেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে দেশের ৯০ভাগ উন্নয়নই নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। এই সফলতার অংশিদার সবাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারই প্রথম মাঠ পর্যায়ে এ চুক্তি হচ্ছে। তাই তৃণমূলে যেনো সব সেবা পৌঁছায় তা খেয়াল রাখতে হবে। বার্ষিক কর্ম সম্পাদন বাস্তবায়নের প্রধানতম দায়বদ্ধ থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা। মন্ত্রিরা কাজের তদারকি করবেন। আর অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা সব সেবা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ শ্রম দেবেন।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে জেলে বসেও ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়ন ও কাঙ্খিত লক্ষ্য ভেবেছি। ছোট ছোট কাগজে তার ভাবনাগুলো লিখে রেখেছি। পরবর্তীতে সেগুলোর ভিত্তিতেই তৈরি হয় রূপকল্প ২০২১।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত করার নীতিমালা নিয়েই আমরা সরকার গঠন করি। লক্ষ্য একটাই, গণতান্ত্রিক সুশাসনের মাধ্যমে দেশের আর্থ সামাজিক ও জনগণের জীবনমান উন্নয়ন।

তিনি বলেন, পাঁচ বছর ক্ষমতার মেয়াদে কতটুকুই কাজ করা যায়? তাই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ১০ বছর মেয়াদি আরো একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়ানোই এর লক্ষ্য।

বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ জনগণের সেবা করলেই বিপদ আসে, তার প্রমাণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা। এটা শুধু একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে শেষ করা নয়, একটি দেশ ও জাতির চিন্তা-চেতনাকে ধ্বংস করা। দেশকে আরো অন্ধকারে নেয়া।

তিনি বলেন, ২১ বছর পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের সম্পদ তাদের হাতে দেয়ার চেষ্টা করেছে। মাঝখানে এ কাজ ব্যহত হয়েছিল। ফের ক্ষমতায় এসে আবারো সে চেষ্টা চলছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই এর একমাত্র উদ্দেশ্য।

কে আর/এমবিএইচ