পদ আছে,কিন্তু ডাক্তার নেই ঠাকুরগাঁওয়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে। এ কারণে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে দিনাজপুর,রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে এই জেলার মানুষ। আর নিম্ন আয়ের মানুষ কবিরাজ-মাহাত ও হাতুরে ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলা সদর হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ডাক্তারের পদ ৪২টি। তবে কর্মরত রয়েছে ১৯ জন চিকিৎসক। এর মধ্যে দুই জন যোগদান করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। অন্যদিকে সীমান্ত ঘেষা হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডা.মো.মাহফুজুল ইসলাম যোগদান করেই তিনিও ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে উধাও হয়েছেন। এই উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালে ১ জন চিকিৎসক দিয়ে এখন চিকিৎসা চলছে। একই হাল অন্য উপজেলার হাসপাতাল গুলোতে। রাণীশংকৈল,পীরগ্ঞ্জ ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৮৪টি পদে ডাক্তার নেই।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পর্যায়ে জেলার ১৩ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে ২টিতে ডাক্তার রয়েছে। অন্য কেন্দ্র গুলো চালু হওয়ার পর থেকে কোন চিকিৎসক যোগদান করেনি ঐ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে বলে জানা গেছে। হরিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা.মোস্তাফিজুর রহমান দুঃখ করে বলেন,কী ভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তারা থাকবে! না আছে থাকার ব্যবস্থা না আছে পরিবেশ পরিবার নিয়ে থাকার। এই জন্য তিনি ব্যবস্থাপনাকে দায়ি করেন।
অপরদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নাক-কান ও গলা,চক্ষু,চর্ম ও যৌন,সার্জারি(শৈল চিকিৎসা) অর্থপেডিক্স,কার্ডিওলজি সিনিয়র কনসালটেন্ট পদে চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য সেবার ঝুঁকিতে রয়েছে এ জেলার মানুষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,শুধু হাসপাতাল আছে কিন্তু ডাক্তার নেই। চিকিৎসার জন্য তাদের বাধ্য হয়ে দিনাজপুর,রংপুর ও ঢাকায় যেতে হচ্ছে। সদর উপজেলার উত্তর হরিহরপুর আব্দুর রহিম নাক-কানের সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু সদর হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় তাকে রংপুরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অভাব অনটনের কারণে তার এখন চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে বলে জানায় তার পরিবার। একই দূর্ভোগে পড়েছে পাশের গ্রামের আব্দুল মতিন।
আদিবাসী নেতা সুর্য্য মুরমু অভিযোগ করে বলেন, জেলা সদর ও উপজেলা হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসার বেহাল অবস্থা। চিকিৎসক স্বল্পতার কারণে ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ওঝা,কবিরাজ ও মিশনারীজ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তিনি জানান চিকিৎসার অভাবে অনেকে অকালে ঝড়ে পড়ছে।
এ প্রসংগে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা.আবু-মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন,চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
সোহেল পারভেজ/জেড





