কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাস্টিস মুভমেন্টের চেয়ারম্যান এবং এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চ্যান্সেলর ড. আবুল হাসান মোহাম্মাদ সাদেক বলেন, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের প্রথম শর্ত হলো নিজে আইন ও বিধান মেনে চলা। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই যদি বিধান অমান্য করে, তাহলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। শুধু ইবাদতের মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে আল্লাহর বিধান ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাও আমাদের কর্তব্য। এ পথে প্রয়োজনে জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করাও ঈমানের অংশ।
ড. সাদেক আরও বলেন, শহীদ হাদী অল্প বয়সেই ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—মৃত্যু অবধারিত, তবে সেই মৃত্যু যদি সমাজ পরিবর্তনের প্রেরণা হয়ে ওঠে, সেটিই প্রকৃত শাহাদাত। তার আত্মত্যাগ আমাদের পথ দেখায়।
তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে মৃত্যু আসে না। তাই ভয় নয়, সাহস ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানোই বাংলাদেশ জাস্টিস মুভমেন্টের নীতি।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. এ. এফ. এম. নাজিম উদ্দীন বলেন, আমরা একটি রাজনৈতিকভাবে ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র চাই—যেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও ঘুষের কোনো স্থান থাকবে না।
বিশেষ অতিথিরা বলেন, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। যেখানে আছি, যে দায়িত্বেই আছি—সেখান থেকেই সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাস্টিস মুভমেন্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ জমিয়তুল মোদাররেছীনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু জাফর সাদেক সালেহ, ভাইস চেয়ারম্যান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নূর মোহাম্মাদ মল্লিক, গাজীপুর জেলা আহ্বায়ক শেখ সাইফুল্লাহসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচি থেকে হাদী হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
এনএইচ