রাজশাহীর মো. সফিকুল ইসলামের রয়েছে ‘আয়কর ভীতি’। খোলা এক চিঠিতে তিনি বলেন, আমাদের দেশের জটিল আয়কর আইন ও আয়কর প্রদানের জটিল পদ্ধতির কারণে মানুষের আয়কর দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা সেটা দিতে পারেন না।
তার অভিযোগ কর অফিসগুলোতে মানুষ সাধারণত কোনো সেবা পান না। বরং তাদের হুমকি-ধমকি ও অসদাচরণের ফলে মানুষের কাছে আয়কর অফিস একটি ভয়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু যারা কর দেন না, তাদের সমস্যায় পড়তে হয় না। যারা কর দেন, তাদের হাজারো ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হয়।
তার মতে আয়কর হিসাবের পদ্ধতি এত জটিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা খুব কষ্টকর। পদ্ধতি সহজ হলে সাধারণ মানুষ কর দিতে আগ্রহী হতেন। বিষয়টি সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তারা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই সবার জন্য ভালো।
রাজশাহীর মো. সফিকুল ইসলামের মতো ভীতির কথা বলেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞানীআইন্সটাইন। তিনি বলেছিলেন, ‘ পৃথিবীতে সবচেয়ে জটিল বিষয় হচ্ছে আয়করের হিসাব' ;
এ কথা স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রীআবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, ‘আয়কর আইনে এখনো জটিলতা রয়ে গেছে। এ কারণে, রিটার্ন দাখিল ও কর প্রদানের ক্ষেত্রে করদাতারা সাধারণত ভয় পান।’
সরকারিকর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়কর রিটার্ন দাখিল বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্যপ্রদানের লক্ষ্যে ৬ সেপ্টেম্বর সচিবলায়ে ‘কর তথ্য ও সেবা কেন্দ্র’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, আয়কর আইনের সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ধারাটি সংশোধন করে সহজ করা উচিত। তাহলে আর কেউ কর দিতে অনীহা প্রকাশ করবেন না।
তিনি বলেন, আইন করার সময় মানবিক দিকগুলো বিবেচনা করা উচিত। এনবিআর চেয়ারম্যানের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনগণ যেন বলতে না পারে এনবিআর আমাকে জ্বালাতন করে, তাই আমি কর দিই। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে কর দেয় মাত্র ১৭ লাখ। এটি বৃদ্ধি করে ৩০ লাখে নিয়ে যেতে হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর দিতে গিয়ে অনেকেই মনে করেন তিনি আটকে গেলেন। করের আওতায় এসে আটকে যাওয়ার ভয়ে অনেকেই আয়কর দেন না।
ভোগান্তি যাই হউক সেপ্টেম্বর মাস এলেদেশের সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক মহলে আয়কর সম্পর্কে অনেক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। এমাসে ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতাগণ তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে থাকেন।
এর কৃতিত্ব পুরটাই অবশ্য এনবিআর এর। আয়কর প্রদানের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনে এনবিআর বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ এরই মধ্যে নিয়েছে। কর অঞ্চল পুনর্বিন্যাস, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ফরম সহজীকরন, আয়কর মেলার আয়োজন, শ্রেষ্ঠ আয়কর দাতাদের সম্মাননা দেয়াসহ অনলাইনে আয়কর প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগে ধীরে ধীরে সর্বসাধারণের মধ্যে আয়কর প্রদানের প্রতি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করদাতাদের সুবিধার্থে অনলাইনে চালু করা হয়েছে ইনকাম ট্যাক্স ক্যালকুলেটর। এটা ব্যবহার করে যে কেউ অতি সহজে নির্ণয় করে ফেলতে পারবেন নিজের জন্য প্রযোজ্য ট্যাক্সের পরিমান।
এএইচ





