মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা বড়রায়পাড়া গ্রামে বউকে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে গলায় দড়ি বেধে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। লিজা আক্তার (২২) কে ৫ লক্ষ্য টাকা যৌতুকের জন্য তার স্বামী আরশ মিয়া ও তার শাশুরী মোরশেদা পিটিয়ে হত্যা করে।

এদিকে এ ঘটনায় সোনারগাঁয়ে লিজার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত লিজার বাবা-মায়ের ও লিজার স্বজনদের কান্নায় চেঙ্গাকান্দি গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

অপর দিকে জানাযায়, গজারিয়া এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েলের নির্দেশে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

সরেজমিনে জানাযায়, দের বছর পূর্বে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর এলাকার চেঙ্গাকান্দী গ্রামের খেটে খাওয়া দরিদ্র কৃষক নুর মোহাম্মদের একমাত্র মেয়ে লিজা আক্তার (২২) কে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড়রায়পাড়া গ্রামের মুনতাজ উদ্দিনের ছেলে দুবাই প্রবাসী আরশ মিয়ার (৩০) সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। বিবাহের সময় ৫ লক্ষ্য টাকা সমপরিমান ফার্নিসার দিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও তা না দিতে পারায় লিজা আক্তার (২২) কে প্রাণ দিতে হলো স্বামী ও শাশুরীর নির্মম নির্যাতনে।  

লিজার বাবা নুর মোহাম্মদ কান্নায় ভেঙ্গে পরা অবস্থায় বলেন, আমার মেয়ের জামাই আরশ মিয়া দুবাই থেকে গত ১ নবেম্বর বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়িতে আসে। পরের দিন ২ নবেম্বর শুক্রবার দিন তাদের বাড়ির লোকজন সাথে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অতি আনন্দের সহিত মধ্যাহ্ন ভোজের পর লিজাকে শশুর বাড়িতে নিয়ে যায়। শনিবার দিন সকাল বেলা খবর পাই আমার মেয়ে নাকি গলায় ফাসি দিয়ে আত্মহত্যা করছে। খবর পেয়ে আমিও আমার গ্রামের কিছু লোক নিয়ে লিজার শশুর বাড়িতে যাই, সেখানে যাওয়ার পর লিজাকে মারার কারন জানতে চাইলে লিজার শশুর বাড়ির আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েলের নির্দেশে উল্টো আমাদের উপর হামলা চালিয়ে ৭/৮ জনকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে।

এসময় আহত হন, চেঙ্গাকান্দী গ্রামের সফিক মিয়ার ছেলে শাহজালাল, দেলোয়ারের ছেলে সজীব, রফিক মিয়ার ছেলে ফারুক, দেলোয়ারের স্ত্রী ও লিজার ছোট চাচী প্রিয়াংকা ও নুরুল ইসলামের মেয়ে মুন্নি যাদের হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে এবং কারো কারো মাথায় মারাত্মক জখম রয়েছে।

নিহত লিজার মা জানান, ৫ লক্ষ্য টাকার যৌতুক দিতে পারিনি বলে শুক্রবার রাতেই মেয়ের স্বামী ও তার শাশুরী মোরশেদা আমার মেয়ের উপর শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার পর গলায় দড়ি বেধে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

বড়রায়পাড়ার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, মেয়েটিকে অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে,তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও হাতে নিলাফুলা জখমের চিহ্ন দেখা গেছে।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুও মামলা হয়েছে।

শাহ জালাল/এসএম