দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে সরকার উপবৃত্তির টাকা দিলেও সেই উপবৃত্তির টাকা থেকে জোরপুর্বক টাকা কেটে নিয়ে সেই টাকা দিয়ে ল্যাট্টিন নির্মাণ করা হচ্ছে।
এমনই অভিযোগ ওঠেছে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার পয়লা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চরমক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, পয়লা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩২জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য টাকা ২লাখ ৭৩ হাজার ৩শত ৬০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সোমবার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার স্কুলে গিয়ে এ টাকা বিতরণ করেন। শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা অফিস কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্রই প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান, শিক্ষক হেলাল উদ্দিন ও মোখলেস বিএসসি তাদের কাছ থেকে স্কুলে ল্যাট্টিন নির্মাণ করার কথা বলে জোরপুর্বক টাকা ১শ’ থেকে ২শ টাকা নিয়ে নেন। যারা দিতে অস্বীকার করেছেন তাদেরকে পরববর্তীতে উপবৃত্তির তালিকা থেকে বাদ দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন।
৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্র শহিদুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলাম ও নবম শ্রেনীর ছাত্রী আজিদা খাতুন জানান, প্রথমে আমাদের পুরো টাকাই দেয়া হয়। পরে স্যাররা স্কুলে টয়লেট নির্মানের কথা বলে একশ’ থেকে দুইশ টাকা করে জোরপুর্বক নিয়ে নেয়। যারা দিতে চায়নি তাদের উপবৃত্তির থেকে নাম কেটে দেয়া হবে হুমকি দিয়েছেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের মোল্লা জানান, আমার মেয়ে সুরমিন খাতুন নবম শ্রেনীতে পড়েন। শিক্ষা অফিসার ঠিকই টাকা দিয়েছেন।
কিন্তু স্কুলের শিক্ষক মোখলেস বিএসসি রাস্তায় তার মেয়েকে আটকে তার কাছ থেকে ২শ টাকা জোরপুর্বক নিয়ে নিয়েছে। ছাত্রীদের এভাবে রাস্তার মধ্যে হেনস্তা করে টাকা নেয়ায় তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই শিক্ষকদের শাস্তি দাবী করেছেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের টয়লেট নির্মানে কাউকে চাপ দেয়া হয়নি। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তা করার বিষয়ে বলা হয়েছিল। যে যেভাবে পারে উপবৃত্তির টাকা থেকে কিছু করে দিয়ে গেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কাশেম ওবায়েদ জানান, আমার প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর হাতে সম্পন্ন টাকা দিয়েছি। শিক্ষকরা বাইরে টাকা নিয়েছে কিনা বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে ছাত্র-ছাত্রী বা অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এসএ





