২০১০ সালে কাজ শুরুর পর গত চার বছরেও বঙ্গবন্ধু পরিবারের খুনীদের অবস্থান নিরূপণ করতে পারেনি গঠিত টাস্কফোর্স। দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের টেবিলে উত্থাপিত এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংসদকে এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি দণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামীর মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আসামী মেজর (অব.) মো. আব্দুল আজিজ পাশা জিম্বাবুয়েতে মৃত্যুবরণ করেন বলে জানা গেছে। পলাতক বাকি আসামীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ওই বছরের ২৮ মার্চ টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি গত চার বছরে দুই ডজনেরও বেশী বৈঠক করেও খুনীদের অবস্থান নিরূপণ করতে পারেনি।’
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘অবশিষ্ট ৬ আসামীর বর্তমান আনুমানিক অবস্থান হচ্ছে- এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায়, আবু মোহাম্মদ রাশেদ চৌধুরী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, আব্দুল মাজেদ ডাকার সেনেগালে, মোসলেহ উদ্দিন ভারতে, খন্দকার আব্দুর রশিদের অবস্থান কখনও লিবিয়া বা কখনও পাকিস্তান এবং শরিফুল হক ডালিমের অবস্থান কখনও পাকিস্তান বা লিবিয়া আবার কখনও জিম্বাবুয়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খুনীদের ছবি সংবলিত তথ্য প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হলে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এর আগে পলাতকরা যাতে অন্য কোনো দেশের (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা) নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহকে অনুরোধ করা হয়েছে।’
সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে ১৬৮ নারী পুলিশ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে একজন পুলিশ সুপার, ৬ জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, দু’জন সিনিয়র এএসপি, চারজন এএসপি, দু’জন মেডিকেল অফিসার, ৯ জন ইন্সপেক্টর, ১৬ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৪১ জন এএসআই, ৮৫ জন কনস্টেবল, একজন বাবুর্চি ও একজন পরিচ্ছন্নকর্মী রয়েছেন। এ সব নারী সদস্যের মেয়াদ শেষে তাদের পরিবর্তে রোটেশন অনুযায়ী নারী সদস্যদের মিশনে পাঠানোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক সমস্যা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও এর ভয়াল থাবায় আক্রান্ত।’ মন্ত্রী এ সময় সংসদে গত ৫ বছরের ইয়াবা উদ্ধারের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তার দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ৭ হাজার ১৭৮টি মামলা করা হয়েছে। এ সব মামলার আসামী ১০ হাজার ৭৯ জন।
তাহজীব আলম সিদ্দিকীর এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উদ্যোগে ২০১৪ সালে ১৪ হাজার ৯১৫টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৭ হাজার ৯৪৮টি মামলায় ৮ হাজার ৩২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বারিধারাসহ অন্যান্য অভিজাত এলাকার অবৈধ বার ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২৩০টি অভিযানে ৩০টি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এতে মোট ৪০ আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এএইচ





