আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হয়নি বলে মনে করেন রাজধানী ঢাকার ৮৬ শতাংশেরও বেশি ভোটার।

এ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না- এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন জরিপে অংশ নেয়া ৫৪.৪ শতাংশ ভোটার। আর ৬২ শতাংশ ভোটারের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপে। ঢাকার দুই সিটিতে পরিচালিত এ জরিপে ৪৬১ জন ভোটার অংশ নিয়েছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের লোকনীতি বিশ্লেষণ কোর্সের শিক্ষার্থীরা জরিপটি পরিচালনা করেন। জরিপটি পরিচালিত হয় গত ১৭ থেকে ২১ এপ্রিল যাতে প্রধান গবেষক ছিলেন লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রফেসর সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান।

জরিপের উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বড় রাজনৈতিক ঘটনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রকৃতি বোঝার জন্যই এ জরিপ।

জরিপে দুই সিটি করপোরেশনের ৪৬১ জন ভোটারের মধ্যে উত্তরের ২৩৮ জন এবং দক্ষিণের ২২৩ জন অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৫২.৫ শতাংশ পুরুষ, নারী ৪৭.৫ শতাংশ। দৈবচয়ন পদ্ধতিতে দক্ষিণের ২১টি ওয়ার্ডে এবং উত্তরের ১৮টি ওয়ার্ডে এই জরিপ পরিচালিত হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৮.৬ শতাংশ এবার প্রথমবারের মতো সিটি নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ঢাকা উত্তরের ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৩, দক্ষিণে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ৩৬৩।

দুই সিটির মধ্যে উত্তরের ভোটারদের ভোট নিয়ে উৎসাহ অপেক্ষাকৃত কম। এই এলাকার ৬৯ শতাংশ ভোটারই ভোট নিয়ে নিরুৎসাহ বোধ করছেন। আর দক্ষিণে অনাগ্রহী ভোটারের সংখ্যা ৫৪.২ শতাংশ। দুই সিটি মিলেয়ে উৎসাহী ভোটারের পরিমাণ ২৬.২ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেয়া ভোটারদের মধ্যে দুই সিটিতে ৫১.৬ শতাংশই বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে তারা কাউকেই চেনেন না। উত্তরের ৬২ শতাংশ তাদের প্রার্থীদের চেনেন না। দক্ষিণে এই সংখ্যা ৪২.৪ শতাংশ।

দুই সিটির ৫৪ শতাংশ ভোটারের আশঙ্কা, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এমন ধারণা দক্ষিণের ৬৫.৫ শতাংশ ভোটারের, উত্তরে ৩৮ শতাংশের। নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি হয়নি বলে মনে করেন ৮৬.৩ শতাংশ ভোটার। এ ক্ষেত্রে উত্তরের ভোটারদের ৯১.৫ শতাংশ মনে করেন সমান সুযোগ তৈরি হয়নি। দক্ষিণে এমন ধারণার সংখ্যাটা অপেক্ষাকৃত কম, ৭৯.৫ শতাংশ।

দুই সিটির ভোটারদের মধ্যে ৭৭.১৫ শতাংশ মনে করেন, নির্বাচন চলাকালে সেনা মোতায়েনের দাবি যৌক্তিক। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণের ৮১ শতাংশ ভোটার এই দাবি সমর্থন করেন। উত্তরে সেনা মোতায়েনে সমর্থন মেলে ৭৩.৩ শতাংশ ভোটারের কাছ থেকে।

লোকনীতি বিশ্লেষণের জরিপে দেখা যায়, ৭৩.৫ শতাংশ ভোটারই মনে করেন, এই নির্বাচন জাতীয় রাজনৈতিক অস্থিরতাকে কমাতে সাহায্য করবে না।

এআর