রাত তখন সাড়ে নয়টা। বাজারে তখনও এলাকার লোকজন প্রয়োজনীয় কাজ করছে। ঠিক এমনই সময়ে সবার চোখের সামনেই মেঘনার স্রোত বিলীন করে নিয়ে গেল একে একে ১৪টি দোকান। স্রোতে ভাসতে ভাসতে চলে গেল দোকানে থাকা মূল্যবান মালামাল আর জিনিসপত্র।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হামিদপুর গ্রামের নতুন স্লুইজ বাজারে। স্লুইজ খাল এবং মেঘনার মিলনস্থলের নতুন স্লুইজ বাজারের বাঁধে হঠাৎ ভাঙন শুরু হলে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ১৪টি দোকান। এছাড়া প্লাবিত হয় বিস্তৃর্ণ এলাকা।

আকষ্মিক ভাঙনে বাজারের ৮টি মুদি দোকান, মাছের আড়ৎ, দু’টি কাঁচা মালের দোকান, সেলুন ও একটি চায়ের দোকান বিলীন করে নিয়ে যায় মেঘনার স্রোত। এতে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

ক্ষতিগ্রস্ত বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন আকন জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ করে বাজারের একটা অংশ নীচের দিকে ডুবে যায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই রাতের গভীরে হারিয়ে যায় ১৪টি দোকান। এতে ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়া করে নিজেদের জীবন বাঁচাতে পারলেও দোকানের কোন মালামাল রক্ষা করতে পারেননি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ৩০ লাখ টাকা হবে বলে জানান তিনি।

নদীগর্ভে বিলীন হওয়া দোকানের মধ্যে স্থানীয় ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন আখন, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সিরাজ রাঢ়ী, মোস্তফা রাঢ়ী, আব্দুল লতিফ, মিন্টু মিয়া, ইদ্রিস দিদার, নোমান খান এবং ছমেদ সরদারের ৮টি মুদি দোকান, রফিকুল ইসলামের একটি ইলিশ মাছের আড়ৎ, আব্দুল কাদের এবং রমিজ তালুকদারের দু’টি কাঁচা মালের দোকান, জীবন দাসের একটি সেলুন এবং তোতা রাঢ়ীর চা দোকান রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শাহাদৎ হোসেন আখন জানান, গত ১২ জুলাই তার মুদি দোকান প্রথম মেঘনার আকষ্মিক ভাঙনে হারিয়ে যায়। দ্বিতীয় দফায় মঙ্গলবার রাতে তার দোকানটি প্রায় আড়াই লাখ টাকার মালামালসহ ডুবে গেছে। একই রাতে প্রায় দেড় লাখ টাকার মজুতকৃত ইলিশ মাছসহ ডুবে গেছে রফিকুল ইসলামের আড়ৎ।

এদিকে বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের আরও কমপক্ষে ২৭টি দোকান বাঙনের মুখে রয়েছে। যে কোন সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে দোকনগুলো। ভাঙনঝুঁকিতে থাকা দোকনগুলোর মধ্যে ১২টি মুদি, ৩টি চা, ২টি কাপড়, ৪টি ফার্মেসী, ২টি কম্পিউটার, ২টি সেলুন এবং একটি করে পার্স ও কাঠের দোকান রয়েছে। মঙ্গলবার রাতের আকষ্মিক ভাঙনের পর ব্যবসায়ীরা দোকানগুলো ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে চরমাদরাজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন সর্মান বলেন, ‘বাজার ভাঙনের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আল ইসলামকে জানানো হয়েছে, চরাঞ্চলের অন্য কোথাও যায়গা পাওয়া গেলে সেখানে বাজারটি স্থানান্তরকরা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।’

ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই