উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনের নিরবতার সুযোগে চাঁনখারপুল মোড়ে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে রাতারাতি অবৈধ ৩ তলা মার্কেট নিমার্ণ সম্পন্ন করেছে জবর-দখলকারীরা।
অভিযোগ উঠেছে,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকতাসহ সম্পত্তি বিভাগের কর্মকতাদের সহযোগিতায় ডিএসসির প্রায় ৫০০ কোটি টাকার জমিতে বিনা বাধায় জবর দখলকারীরা অবৈধ ৩ তলা মার্কেট নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। খুব শিগগিরই এই মার্কেটের উদ্ধোধন করা হবে এমন কথাও শোনা যাচ্ছে।
ডিএসসিসির সূত্রমতে,ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবন থেকে মাত্র ৮০০ গজের মধ্যে চাঁনখারপুল  মোড়ে ডিএসসিসির প্রায় দেড় বিঘা জমির উপর স্ট্রিলে পাত এবং টিনের ছাউনি দিয়ে বিশাল আকৃতির এই অবৈধ মার্কেট নিমার্ণ সম্পন্ন করেছে।
২০১২ সালে ডিএসসিসিসি'র সাবেক প্রশাসক জিল্লার রহমানের নির্দেশে র্যা ব ও পুলিশের সহযোগিতায় চাঁনখারপুলের মোড়ের এই অবৈধ মার্কেট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে ডিএসসিসি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন।
পরে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ হবার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমেদ প্রগতি সমবায় সমিতির ব্যানারে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ওই বছর রিট পিটিশননং-৮৭৮৪/২০১২ দায়ের করেন।
২০১২ সালের ৮ জুলাই বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিক এবং বিচারপতি জাফর আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে  ডিএসসিসি’র  প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই আদেশে  জারি করা রুলের নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই জমিতে ‘ষ্টেটাস কো’ দেওয়া হয়। ফলে কোনো পক্ষই ওই জমিতে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অবকাঠমোর আর পরিবর্তন করা যাবে  না মর্মেও শর্ত করে দেয় আদালত।
আদালতের ওই আদেশের  সার্টিফাইড কপি ডিএসসিসির দফতরে পৌঁছে ২৭ অক্টোবর। এর পর ডিএসসিসির পক্ষ থেকে আদালতে রুলের জবাব দাখিল করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
নাম না প্রকাশের শর্তে ডিএসসিসির সম্পত্তি ও আইন বিভাগের একজন কর্মকর্তা টাইমনিউজবিডিকে বলেন,উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগ নেতাদের রাতারাতি মার্কেট নিমার্ণের বিষয়টি নিয়ে কেউ সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন এবং বিচারিক আদালতকেও অবহিত করেনি। এতো দিন তাকেও কেউ অবহিত করেননি।
এমনকি জবর দখলকারীদের সহায়তাকারী ডিএসিসি'র সম্পত্তি বিভাগ এবং আইন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও রয়েছেন নিরব।
ডিএসসিসি’র প্রধান আইন কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম টাইমনিউজবিডিকে বলেন,আইন তো কেউ মানে না। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট তৈরি করে যাচ্ছে। আমরা অনেক ব্যস্ত,অনেক কাজ আছে। শুধু ওই মার্কেটই নয় নগরীর অনেক জায়গাই অবৈধ ভাবে সম্পত্তি বিভাগ বরাদ্দ দিয়েছে। তাদের কারণেই মামলা মোকদ্দমার সংখ্যা বাড়ছে। এই সব বিষয়ে আইন বিভাগ থেকে মতামত দিয়ে নথি পাঠানো হয়। বাকিরা কাজ না করলে আমাদের আর করার কি আছে।
সূত্রে জানা গেছে,গত ২০১০ সালে সম্পত্তি বিভাগের চাঁনখার পুলের ডিএসসিসি'র ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ জমিতে রাতারাতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এমএম আজিজের সমর্থনে রাজু আহমেদ,বিপ্লব ও মানিক মার্কেট নির্মানের উদ্যোগ নেয়।
গত ২০১২  জুলাই মাসে হাসপাতাল নির্মান প্রকল্পের মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে  দখল নেওয়ার চেষ্ঠা করে প্রগতি সমবায় সমিতির ব্যানারে আওয়ামী লীগ ওই  নেতারা। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা এমএ আজিজ তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
[b]ঢাকা,একে,৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]