রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন যৌন হয়রানির অভিযোগ দেয়ায় এক ছাত্রীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৪৬৭তম সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বহিষ্কৃত শাপলা সুলতানা রাবি ভাষা (উর্দু) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী ও রাবি শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন কর্মী।

রাবি প্রো-ভিসি ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান জানান, ওই ছাত্রী একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিল। তার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে কেন সে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশের জবাব পাওয়ার পর রোববার রাতে সিন্ডিকেটের সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ওই ছাত্রীকে স্থায়ী বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, গত বছরের ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বরের দু’টি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ২০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একজন সহকারী অধ্যাপক ও বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ দেয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থী শাপলা। ২৬ ডিসেম্বর তৎকালীন ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিনকে আহ্বায়ক করে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

তদন্ত শেষে ওই কমিটি সিন্ডিকেটে তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পত্র জমা দেয়। পরে ৪৬৪তম সিন্ডিকেটে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ছাত্রীর অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে একজন শিক্ষকের সম্মান ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে সিন্ডিকেট ওই ছাত্রীকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নোটিশের উত্তর দেয়ার পর সবদিক বিবেচনা করে সিন্ডিকেট তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।
জানতে চাইলে বহিষ্কৃত ছাত্রী শাপলা সুলতানা বলেন, সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ একপাক্ষিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করেছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের নোটিশ হাতে পেলে আমি আইনী প্রক্রিয়ায় যাব।