কবর খোঁড়া হয়েছে। মৃতঘোষিত নবজাতকের মাথা কোন দিকে রয়েছে, তা দেখার জন্য খোলা হলো কার্টন। খুলতেই কেঁদে ওঠে শিশুটি। দ্রুত তাকে শহরের ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটি সেখানেই চিকিৎসাধীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে ফরিদপুর শহরের আলীপুরে পৌর কবরস্থানে। সদ্যোজাত শিশুটি শহরের কমলাপুর এলাকার নাজমুল হুদার মেয়ে। নাজমুল ঢাকায় থাকেন।
হাসপাতালটির শিশু বিশেষজ্ঞ নীরঞ্জন কুমার দাস গতকাল বিকেলে বলেন, শিশুটি ৫ মাস ২২ দিনের মাথায় জন্ম নিয়েছে। ওজন ৭০০ গ্রামের কাছাকাছি। শিশুটি এখন এখানেই আছে। তবে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া গেলে আশঙ্কামুক্ত থাকা যেত। ফরিদপুরে এ সুবিধা নেই। তাই শিশুটিকে ঢাকা শিশু হাসপাতাল বা সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নবজাতকের দাদা আবুল কালাম মিয়া বলেন, ‘প্রসববেদনা উঠলে পুত্রবধূ নাজনীন আক্তারকে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডা. জাহিদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাকে হাসপাতালের দোতলায় চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যাই। চিকিৎসক রিজিয়া আলম তখন অস্ত্রোপচারকক্ষে ছিলেন।
তিনি এসে জানান, হাসপাতালে শয্যা নেই। আমি বলি, প্রসূতি তীব্র বেদনা অনুভব করছে, একটু দেখেন। চিকিৎসক “দেখব” বলে চলে যান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিকিৎসকের কক্ষের শয্যায় স্বাভাবিকভাবে মেয়েশিশুটির জন্ম হয়। পরে চিকিৎসক এসে বলেন, শিশুটি মৃত জন্ম গ্রহণ করেছে। এরপর শিশুটিকে কার্টনে ভরে রেখে দেওয়া হয়। রাত তিনটার দিকে আমি শিশুটিকে কবর দেওয়ার জন্য কবরস্থানে নিয়ে যাই।’
পৌর কবরস্থানে কবর খোঁড়ার দায়িত্বে নিয়োজিত পৌরসভার কর্মচারী হিরণ শেখ বলেন, রাত তিনটার দিকে আবুল কালাম মিয়া কার্টনে ভরে নবজাতককে নিয়ে আসেন। রাতে কবরের কাজ হয় না বলে তাঁকে সকালে আসতে বলা হয়। সারা রাত কার্টনটি একটি পাকা কবরের কার্নিশে রাখা হয়। ভোর হওয়ার পর খবর খোঁড়া হয়। কবর দেওয়ার আগে পৌরসভার নিয়োজিত মাওলানা আবদুর রব মৃত শিশুর মাথা কোন দিকে রয়েছে, তা দেখতে চান। এ জন্য কার্টন খোলা হয়। সঙ্গে সঙ্গে কেঁদে ওঠে নবজাতকটি। দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
গাইনি চিকিৎসক রিজিয়া আলম বলেন, ‘শিশুটির ছয় মাসে জন্ম হয়েছে। পালস ও হার্টবিটও পাওয়া যায়নি। শিশুটিকে নানাভাবে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে কার্টনে ভরে পরিবারের সদস্যদের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়। অলৌকিকভাবে, আল্লাহর ইচ্ছায় সে বেঁচে উঠেছে।’ হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন ফরিদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে হয়েছে।
এসএ





