ঝালকাঠিতে যুবলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এই ঘটনায় এক নেতার সমথর্করা ২ ঘন্টা বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের কলেজ মোড় অবরোধ করে রাখে।  

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাদিসুর রহমান মিলন ও যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক রেজাউল করিম জাকিরের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ জাকিরকে থানায় নিয়ে আসে। এ খবরে জাকিরের সমর্থকরা শহরের কলেজ মোড়ে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী, সদর থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, বিকেলে মিলনের পক্ষের সমর্থরা জাকিরের বিরুদ্ধে ঝাড়ুমিছিল বের করলে পুনরায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় ফায়ার সার্ভিস মোড় থেকে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভংগ করে দেয়। এতে ঝালকাঠি সরকারী কলেজ সভাপতি তরিকুল ইসলাম অপুসহ ছাত্র ও যুবলীগের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়।  

জানা যায়, কয়েকদিন যাবৎ সরকারী কলেজ, ফায়ার সার্ভিস মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ফেস্টুন ছেড়াকে কেন্দ্র করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাদিসুর রহমান মিলন ও  জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক কাউন্সিলর রেজাউল করীম জাকিরের অনুসারীদের মধ্যে প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই জেরে মঙ্গলবার সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে সাগর নামে সৈয়দ মিলনের এক অনুসারীকে মারধর করে গুরুতর আহত করে জাকিরের সমর্থরা। প্রতিবাদে দুপুরে মিলনের সমর্থকরা বাস মালিক সমিতির অফিসে জাকিরকে অবরুদ্ধ করে। এসময় দুই গ্রুপে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ জাকিরকে থানায় নিয়ে আসে। পরে মিলনকেও ফোন করে থানায় এনে উভয় নেতার কাছ থেকে লিখিত রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও যুবলীগ নেতা সৈয়দ হাদিুসর রহমান মিলন জানান, সকালে সাগর নামে কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে জাকিরের ইশারায় তার অনুসারীরা বেধরক মারধর করে। পরে গুরুতর মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে নেয়া হয়। এই ঘটনায় পুলিশ গিয়ে সেখান থেকে জাকিরকে থানায় নেয়। আমাকে (মিলন) ফোনে থানায় ডাকা হলে আমিও থানায় যাই।  

জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক রেজাউল করিম জাকির বলেন, আমি বাস মালিক সমিতিতে গেলে আমাকে ঘেরাও করা হয়। সেখান থেকে আমাকে থানায় নেয়া হয়। আমি জনসাধারনের যে ভালোবাসা পেয়েছি তাতে তাঁদের কাছে আমি চীর কৃতজ্ঞ।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. বশির গাজী জানান, যুবলীগের দু’গ্রুপের উত্তেজনা বিরাজ করায় মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছিলো। আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

টুটুল/এমবি