রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আগামী নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল এটি। সর্বোচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনীসংক্রান্ত আগের রায় বাতিল করে তা পুনর্বহাল করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এখন আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে।

পূজার ছুটির মধ্যে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাঁকে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

দুর্গাপূজার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক তদারকির ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা দেখা যেত। বর্তমান সরকার দেশকে সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে পেরেছে। এবার ঘটনা ঘটার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

মন্ত্রী জানান, এ বছর দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে পূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান ছিল সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা, যা বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি মণ্ডপে চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। এ বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাট এলাকায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ইতোমধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী জানান, কয়েকটি ক্ষুদ্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পর্যটন মৌসুমে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁকে ফেরত পেতে বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশকে একাধিকবার অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলেও কোনো পলাতক অপরাধীকে দেশে নতুন করে অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না।

এস