রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমরাও শুনছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। তা আমরা তাকে ফেরত পাবার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে আমাদের নেইবারিং কান্ট্রিকে, পার্শ্ববর্তী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।’

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী শক্তি শুরু থেকেই এ ধরনের অপপ্রয়াস চালিয়ে আসছে। তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।

তিনি বলেন, ‘তবে আমরা বাংলাদেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। কোনো অপশক্তিকে না, কোনো পতিত শক্তিকে না, কোনো ফ্যাসিস্টকে না, কোনো পলাতক অপরাধীকে না, কোনো গণহত্যাকারীকে না।’

গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া এবং শত শত নাগরিক হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে কোনো অপতৎপরতা চালাতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে বলে তাদের ধারণা। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, সাংবাদিক এবং দেশের সব স্তরের মানুষের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে দুর্ঘটনা, অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। এবার এসব অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতি ও বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় কেন্দ্র পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিমুহূর্তে মনিটরিং করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গোৎসব ঘিরে দু-একটি ঘটনা ঘটানোর পরিকল্পনা আগেই উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। সে অনুযায়ী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ২০২৬ সালে দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপ হয়েছে, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী সর্বোচ্চ।

তিনি বলেন, পূজার সরকারি বরাদ্দ আগে সর্বোচ্চ চার কোটি টাকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছর তা এক কোটি টাকা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটিসহ মোট পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্যে সরকারিভাবে তিন দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ছাড়া মণ্ডপপ্রতি চালের বরাদ্দ ১০০ কেজি বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে।

সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর সন্ত্রাসী সংগঠনের কিছু কর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। টহলরত পুলিশ সেখানে গেলে সদস্যসংখ্যা কম থাকায় তারা হামলার শিকার হন।

তিনি বলেন, ঘটনাটির ভিডিও তারা দেখেছেন। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সাজেকের পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পাহাড়ে জনসংহতি সমিতি ও ইউপিডিএফ ছাড়াও একই ধরনের নামে আরও কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অন্তর্দ্বন্দ্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর পাহাড়ের কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে এবং আরও নেবে।

এ ছাড়া স্থানীয় হেডম্যান ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য বদরুদ্দুয়ান মিয়াও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, আইনানুগ সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে কারও পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না।

আগামী নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। এ ব্যাপারেই রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী-সংক্রান্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের দেওয়া রায় সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করেছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। তবে সংবিধানে এ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন তাদের আন্দোলনের অঙ্গীকার ছিল। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হবে।

এনএইচ