উদ্বোধনের দীর্ঘ তিন বছর নয় মাস পর আগামী ২ জুন চালু হতে যাচ্ছে বেনাপোল চেকপোষ্ট স্থলবন্দর আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টারমিনাল। নকশায় না থাকলেও ভবনটির তৃতীয় তলাটি ব্যবহার করা হচ্ছে বন্দর পরিচালকদের দপ্তর হিসেবে।

অন্যদিকে নীচতলায় পরিবহনের কাউন্টার করায় বন্দরের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়ছে। পরিবহন কাউন্টারের জন্য আলাদা টারমিনাল ও পরিবহন মালিকদের আলাদা অফিস কাউন্টার রয়ছে। এর ফলে যাত্রীদের পারাপারে বিঘ্ন ঘটবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজন খানের প্যাসেনজার টারমিনালটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চালুর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসিবে উপস্থিত থাকার কথা রয়ছে।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট নৌপরিবহনমন্ত্রী এই প্যাসেনজার টারমিনাল ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্ত স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলায় এতদিন তা চালু হয়নি।

একতিকে প্যাসেনজার টারমিনাল ভবনে ঢুকলে যাত্রীদের মাথাপিছু ৩৩ টাকা পরিশোধ করতে হব।  ফলে যাত্রীরা টারমিনালে প্রবেশ করবেন কি না তা নিয়েও দেখা দিয়েছে তবে অনেকে বলেছেন, পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থাকলে মাশুল দিতে র্কাপণ্য করবেন না যাত্রীরা।

বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বেনাপোল চেকাপোষ্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ভবনের পাশে নির্মান করা হয়েছে। অন্তর্জাতিক যাত্রী টারমিনাল।  দশ তলা ভিত্তির ওপর বর্তমানে তিন তলা পর্যন্ত নির্মান করা হয়েছে টারমিনালটি। এক লাখ তিন হাজার ৬৭৫ বর্গফুটের এ ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় সাত কোটি ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৮২ টাকা। ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিক ট্রেডিং কর্পোরেশন নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তারপর নৌপরিবনমন্ত্রী এটি উদ্বোধন করনে। তার পরপরই ভবনটির তিন তলায় চালু করা হয় বন্দরের প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম।  আর নীচতলা ও দ্বিতীয় তলা খালি পড়ে থাকে।

সূত্র জানায়, ভবনের নকশায় রয়ছে, নিচতলায় একই সময়ে পাঁচটি বড় বাস দাঁড়ানোর মতো খালি জায়গা, খোলা বারান্দা, কাচ দিয়ে ঘেরা যাত্রীদের বিশ্রমকক্ষো, পর্যাপ্ত শৌচাগার, ব্যাংকের বুথ ও টোল আদায় কক্ষ, দ্বিতীয় তলায় যাত্রীদের জন্য তিন হাজার ৮৪০ বর্গোফুটের রেস্তোরাঁ, শৌচাগারসহ বিশ্রামকক্ষো, ওয়াশ রুম এবং তৃতীয় তলায় টারমিনালটির তদারকি কার্যালয়, বিশেষ অতিথিদের (ভিআইপি) জন্য পাঁচটি বিশ্রামকক্ষ, শৌচাগার ও খোলা প্রাঙ্গণ থাকার কথা।

ভবনে ঢুকে দেখা যায়, নিচতলায় কিছু পরিবহনের কাউন্টার করা হয়ছে। দোতলায় কাজ চলছে  তৃতীয় তলায় ভিআইপিদের জন্য নির্মিত পাঁচটি কক্ষে বসে দিব্যি অফিস করছেন বন্দর পরিচালকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা। যাত্রীদের বিশ্রাম বিশাল কক্ষে বসেন কর্মচারিরা। তার একপাশে বানানো হয়ছে নামাজের স্থান। প্যাসেনজার টারমিনালের নকশায় এ সবের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল চেকপোষ্ট দিয়ে ব্যবসা, ভ্রমণ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন প্রায় ৬-৭ হাজার দেশ-বিদেশি যাত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করছেন।  ভ্রমণকর বাবদ সরকার প্রতি বছর এখান থেকে ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি রাজস্ব আয় করে থাক।  কন্তিু শুরু থেকে এপথে যাত্রী সেবার মান খুবই নিম্ন। যাত্রী সুবিধা বাড়াতে সরকার সাত কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বেনাপোল চেকপোষ্টে আন্তর্জাতিক মানের প্যাসেনজার টারমিনাল নির্মান করে।  কন্তিু বন্দর র্কতৃপক্ষের অবহেলার কারনে কারণে এত দিন তা চালু করা হয়নি ফলে যাত্রীরা বঞ্চিত হচ্ছিল তাদের সেবা থেকে।  

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্স অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘বন্দরের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি আলোচনায় আসার পর এক পর্যায় আন্তর্জাতিক বাস ও প্যাসেনজার টারমিনাল নির্মানে দাবি পূরণ হয়। কিন্ত এতোদিন তার সুফল মানুষ ভোগ করতে পারছিলেন না যাত্রীরা। এখন এটা চালু হলে সেবা বাড়বে।

বাংলাদশে স্থলবন্দর এমপ্লয়ীজ ইউনয়িনরে সাধারণ সম্পাদক মনরি হোসনে মজুমদার বলনে, ‘প্যাসনেজার টারমিনাল ভবন চালু হলে যাত্রীরা সেখানে মাত্র ৩৩ টাকার বিনিময়ে বিশ্রামের জন্য দিনভর অবস্থান করতে পারবেন। একই ভবনের নিচে থাকছে ঢাকা-কলকাতাগামী যাত্রীবাহী পরিবহন  কাউন্টার ও খাওয়ার জন্য ক্যান্টিনের ব্যবস্থা। এতে তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের সিনয়ির উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আসিনুল ইসলাম বলেন,  ‘আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টারমিনাল ইমিগ্রেশন কাস্টমস কার্যালয়ের ভবন পাশাপাশি অবস্থিত। দুটি ভবনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের বিষয় দুই পক্ষের একমত হতে তিন বছরের বেশি সময় লেগে গেছে।  সম্প্রতি এ বিষয়ে সবাই একমত হওয়ায় আগামী ২ জুন এটি আনুষ্ঠানকিভাবে চালু করা হরে।  এর ফলে যাত্রীরা টারমিনালের মধ্য দিয়ে ইমিগ্রেশনে যেতে পারবেন। 

এ প্রশ্নরে জবাবে তিনি বলেন,  ‘টারমিনাল ভবনের নকশায় না থাকলেও, বন্দর পরিচাকের দপ্তর আপাতত এই ভবনেই থাকবে।  কারণ, বন্দর পরিচালকের ভবনে এখন রাজস্ব বিভাগের কাজ চলে।

নাছির/এমই