নবগঠিত কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের তিন প্রার্থী।আর কারচুপির অভিযোগে বিএনপি ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মাথায় নির্বাচন বর্জন করেছে।

গতকাল রাতে কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, চেয়ারম্যান পদে ফারুক চৌধুরী নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৩৬ ভোট, তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী এসএম ফোরকান পেয়েছেন ৬ হাজার ৭১৭ ভোট ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী পেয়েছেন ১ হাজার ২৬০ ভোট।

নৌকা প্রতীকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে দিদারুল ইসলাম চৌধুরী ৪০ হাজার ৫২৭ ভোট পেয়েছেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী মো. ওসমান পেয়েছেন ৬ হাজার ৩১০ ভোট।

নৌকা প্রতীকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বানাজা বেগম পেয়েছেন ৪২ হাজার ৫০১ ভোট, তার প্রতিদ্বন্ধী বিএনপির প্রার্থী উম্মে মিরজান শামীমা পেয়েছেন ৬ হাজার ৯৩৯ ভোট।

উপজেলার ১ লাখ ৭ হাজার ৭৯৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৩ হাজার ৫০৪ জন ভোট দিয়েছে বলেও জানান নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন।

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মাথায় সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্র দখল ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি’র চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম ফোরকান তার শিকলবাহা চৌমুহনিস্থ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকালে ভোটার শূন্য ছিল শিকলবাহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আবদুল কাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরলক্ষ্যা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, এ জে চৌধুরী ডিগ্রী কলেজসহ প্রায় প্রত্যেক কেন্দ্র।

বিএনপির বর্জনের ঘোষণার পর দুপুর দেড়টায় সরকারি দলের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এনে ইসলামী ফ্রন্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ মুছা ও জাতীয় পার্টির মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মুন্নি বেগমও ভোট থেকে সরে দাঁড়ান।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এহছান এ খান। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এসএম ফোরকান, উপজেলা বিএনপর সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মামুন মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজী মুহাম্মদ ওসমান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী উম্মে মিরজান শামীমাসহ বিএনপি, যুবদল এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

মাসুম/জেড