দিনমজুর সাঈদা খাতুন নিজেদের জমির সীমানা বুঝে নিতে চাইছিলেন। এজন্য মাপঝোক করছিলেন।

এই অধিকার বুঝে নিতে চাওয়ায় প্রতিবেশী সাবিরুল সরদার চটে গেলেন। প্রথমে বাকবিতণ্ডা, কিছুটা হাতাহাতি।

এক পর্যায়ে দেখাচ্ছি মজা বলেই সাঈদাকে জাপটে ধরলেন সাবিরুল। হুংকার দিয়ে বললেন, 'নিয়ে আই গরুর দড়ি।'

তার কথামতো দড়ি এলে সাঈদাকে বাড়ির নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর দফায় দফায় দিনভর তার ওপর চলে নির্যাতন।

ঘটনাটি বুধবার সকালের, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়নের বুঝতলা গ্রামে।

তিন সন্তানের জননী সাঈদা খাতুন ওই গ্রামের আবদুস সামাদের স্ত্রী। অভাবী সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে বড় ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান। ছোট দুই ছেলে কলারোয়ায় হোটেল কর্মচারী। আর সাঈদা খাতুন নিজে অন্যের জমিতে কামলা খাটেন।

বাড়িতে তিনি একাই থাকেন। স্থানীয়রা জানায়, এক ফালি জমি নিয়ে প্রতিবেশী সাবিরুল সরদারের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার তাকে নির্যাতন করেন সাবিরুল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ওই দিনের ঘটনা সম্পর্কে বলছিলেন সোনাবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম।

তিনি জানান, জমি মাপা নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সৌদ সরদারের ছেলে সাবিরুল সাঈদাকে মারপিট করেছে। এ সময় সাবিরুলের লোকজন সাঈদার বাড়িঘরেও ভাংচুর চালায়। ঘরের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে তছনছ করে।

এ সময় সাঈদা খাতুন থানা-পুলিশে অভিযোগ করতে বাড়ি থেকে বের হলে সাবিরুল তাকে ফের ধরে আনেন। চিৎকার করে বলেন, 'দড়ি নিয়ে আই, থানায় যাওয়ার মজা দেখাচ্ছি। চিরদিনের মতো ওর জমিও খাওয়াব।'

চেয়ারম্যান জানান, এরপরই সাঈদা খাতুনকে সাবিরুল রশি দিয়ে নারকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করতে থাকে। রোজাদার সাঈদা খাতুন এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তখন তার পা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এরপর জ্ঞান ফিরলে দিনভর তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।

মনিরুল ইসলাম আরও জানান, গ্রামবাসী তাকে বিষয়টি জানালে কলারোয়া থানায় জানানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

কলারোয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঈদা খাতুন জানান, স্বামীর ভিটেমাটিটুকু রক্ষা করতে চাওয়ায় তার ওপর প্রতিবেশী সাবিরুল ও তার পরিবারের লোকজন নির্যাতন করেছে।

কলারোয়া থানার ওসি আবু সালেহ মাসুদ করিম জানান, খবর পেয়ে সাঈদা খাতুনকে উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

এদিকে, এ ঘটনায় সাবিরুল সরদারকে প্রধান আসামি করে বৃহস্পতিবার সাতজনের বিরুদ্ধে কলারোয়া থানায় মামলা করেছেন সাঈদা খাতুন।

পরে সাবিরুলকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ মামলার অপর আসামিরা হলেন- মোস্তাক সরদার, আলি হোসেন, আলেয়া খাতুন, মারুফ সরদার, মোসলেম সরদার, ঝর্ণা খাতুন ও আনোয়ারা খাতুন। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

এমআইএস