ময়মনসিংহের নান্দাইলে বন্দুকযুদ্ধে নিহত শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় আটক জঙ্গি শফিউলের লাশ তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শফিউলের মা নার্গিস সুলতানা শিউলি লাশ গ্রহণ করেন।
এসময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘কোন মা চায় না তার সন্তান জঙ্গি হোক, তার সন্তান কাউকে হত্যা করুক, মায়ের বুক খালি হোক।’ তিনি আরো বলেন, ‘ও’তো ছোট মানুষ। ওর কি তেমন বুদ্ধি আছে? ছোট বাচ্চাদের যা শেখানো যায় তাই শেখে। পরিবারের পক্ষ থেকে যা শেখানো যায় তাই শেখে, যখন স্কুলে যায় শিক্ষকরা যা শেখায়, তাই শেখে আর যদি খারাপ সঙ্গ পায়, তখন খারাপ কিছু শেখে।’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমার ছেলেকে যারা জঙ্গি বানিছে তাদের বিচার চাই।’
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি ঘোষপালায় র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় আটক জঙ্গি শফিউল ইসলামসহ দুই জঙ্গি নিহত হয়। পরে তাদের লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে শনিবার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরআগে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা থেকে শফিউলের মা নাগিস সুলতানা শিউলি লাশ গ্রহণ করতে ময়মনসিংহে আসেন। তিনি ছেলের লাশ দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার দক্ষিণ দেবীপুর উত্তর পাড়ায় নিজ বাড়িতে নিয়ে দাফন করবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
পুলিশ জানায়, ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আহতবস্থায় তাকে আটক করা হয়। তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে র্যাব-১৪ সদস্যরা পুলিশ হত্যা মামলায় কিশোরগঞ্জ থানায় সোপর্দ করতে শফিউলকে নিয়ে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাদের গাড়ির বহর নান্দাইলের নান্দাইল উপজেলার ডাংরি ঘোষপালায় পৌঁছলে তাকে ছিনিয়ে নিতে র্যাবের গাড়ির বহরে হামলা চালিয়ে ককটেল ও গুলিবর্ষণ করে। এসময় বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় শফিউলসহ দুই জঙ্গি নিহত হন।
এদিকে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় র্যাব নান্দাইল থানায় তিনটি মামলা দায়ের করেন।
এসএ/টাইম





