আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ১১ দিন মেঘনা নদীর বিভিন্ন অববাহিকায় সব ধরনের মাছধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে মৎস্য জেলার বিভাগ এ নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এই ১১ দিন নদীতে সব ধরনের মাছধরা নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহনও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, সদর উপজেলা, রামগতি, রায়পুরসহ দেশের উপকূলীয় সাতটি জেলার ২১টি উপজেলার নদী অঞ্চলের চারটি প্রধান প্রজনন পয়েন্টে সব ধরণের মাছধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই ১১ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, বিক্রয় ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি এ আইন বাস্তবায়নে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুনিল চন্দ্র ঘোষ জানান, আশ্বিন মাসের ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ সব চেয়ে বেশি পরিমাণ ডিম ছাড়ে। এ পূর্ণিমার দিন এবং আগের পাঁচ দিন ও পরের পাঁচ দিনসহ মোট ১১ দিনকে ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।

তিনি জানান, এ নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য মেঘনা উপকূলে চলে আসে। এজন্য এই ১১ দিন যাতে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা না হয়, সে কারণে মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সরকার সব ধরনের মাছধরা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ কে এম মোশারফ হোসেন জানান, প্রজনন মৌসুমে নদীতে ইলিশ মাছ ধরা নিষেধ। এ সময় কেউ আইন ভঙ্গ করে নদীতে নামলে তার এক মাস থেকে ছয় মাসের জেল এবং সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও সংরক্ষণ বিষয়ক জেলা ট্রাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এ কে এম টিপু সুলতান জানান, সরকারের এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার আওতাধীন মেঘনা নদী, মাছ বাজার ও আড়তগুলোতে ২৪ ঘণ্টা অভিযান অব্যাহত রাখান জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জেআই