পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যশোরের বেনাপোলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসতে শুরু করেছে ভারতীয় গরু। বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দিনভর এ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অন্তত ৪২৬টি গরু এনেছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে, কোরবানির ঈদের আগ মুহূর্তে ভারত থেকে গরু আসা শুরু হওয়ায় সীমান্তের গরু ব্যবসায়ীরা খুশি হলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশীয় গরুর খামারি ও ব্যবসায়ীরা।

তারা বলছেন, প্রতিবছর ঈদের সপ্তাহখানেক আগে ভারত থেকে ভারত এভাবে গরু আসা শুরু হয়। এতে স্থানীয়ভাবে লালন-পালন করা গরুর ন্যায্যমূল্য পান না তারা।

বৃহস্পতিবার বেনাপোল সীমান্ত ঘুরে দেখা যায় পুটখালী ও গোগাঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম হয়ে ভারতীয় গরু আসছে। পরে এসব গরু বেনাপোল বাজার হয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠানো হচ্ছে।

পুটখালী গ্রামের বাসিন্দা নাসিরের বাড়ির গোয়াল ও উঠানে দেখা যায় প্রায় শতাধিক ভারতীয় গরু বাঁধা।

তবে ‍এ সীমান্তে ৫টি ভারতীয় গরুর খাটাল থাকলেও সেগুলো ফাঁকা রয়েছে। ভারতীয় গরুর ব্যবসায়ীরা মানুষের নজর এড়াতে ভারত থেকে আনা গরু সীমান্তের বিভিন্ন মানুষের বাড়ি ও গোয়ালে রাখছেন।

এদিকে, ভারত থেকে আনা গরুর কারণে দেশীয় খামারিদের পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আগে খাটালে গরু রাখায় গরুপ্রতি ৫০০ টাকা রাজস্ব পেতো সরকার। কিন্তু বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে গরু আসছেন।

স্থানীয় ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী রমজান বলেন, ‘অনেকদিন গরু আসা বন্ধ ছিল। এতে এক প্রকার বেকার ছিলাম। এখন ঈদের আগ মুহূর্তে ভারতীয় গরু আসায় আমরা খুশি।’

শার্শার রামপুর গ্রামের দেশীয় গরুর খামারি হাশেম আলী জানান, ভারতীয় গরু আসা কমে যাওয়ায় তাদের ব্যবাস ভালো চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে ঈদের আগে ভারতীয় গরু আসতে শুরু করায় তাদের খামারের গরুর চাহিদা কমে গেছে। গত বছরর ঈদের আগেও এভাবে ভারতীয় গরু আসায় তাদের লোকসান দিতে হয়েছে।

এ প্রসঙ্গ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুর রহমান জানান, বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে থেকে ভারতীয় গরু গ্রহণে কোনো বাধা নেই। তবে কেউ যাতে ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে গরু আনতে না পারে এজন্য বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

জানতে চাইলে শার্শার নাভরণ ভ্যাট অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বনাথ কুণ্ডু জানান, বৃহস্পতিবার সীমান্ত পথে ৪২৬টি গরু এসেছে। রাতেও গরু ঢুকেছে। তবে হিসাব এখন পাওয়া যায়নি। এসব গরুপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এসএ