ছিটমহল বিনিময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সম্মতিতে ভারত-বাংলাদেশের ১৬২টি ছিট মহলের বাসিন্দাদের মধ্যে বইছে আনন্দ উল্লাস ও খুশির হাওয়া। পাড়া মহল্লায় চলছে মিষ্টি খাওয়ার ধুম।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বালারহাট সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশি ছিটমহল ছিট করলার কাছে ভারতের কোচবিহার জেলার সীমান্ত শহর দিনহাটার নয়ারহাটের ডাকুরহাট এলাকায় নির্বাচনী জনসভায় মূখ্যমন্ত্রী ছিটমহল বিনিময়ে তার সম্মতি জানান।
গতকাল সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজেলা সদরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতের ১৫০ নম্বর ছিটমহল দাছিয়ারছড়ায় গিয়ে দেখা যায় পাড়া, মহল্লা এবং বাড়ির আঙ্গিনায় নারী, পুরুষ, শিশু সবারই সরব উপস্থিতি। সবার মুখে মমতা ব্যানার্জীর ছিটমহল বিনিময়ে সম্মতির কথা। অনেকেই পত্র, পত্রিকা এবং অনলাইনে সংবাদ পড়েছেন। আবার কেউ কেই টিভিতে দেখেছেন। আবার কেউ কেউ মমতা ব্যানার্জীর বক্তব্য সরাসরি রেকর্ড করে নিয়ে এসে সবাইকে শোনাচ্ছেন। এরপর চলে মিষ্টি বিতরণ।
ভারতীয় ছিটমহল দাসিয়ের ছড়ার গৃহবধূ রাহেলা বেগম (৪৫) জানান, ছিটমহল বিনিময় হলে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হবো। আমাদের আর সমস্যা হবেনা। এখন আর প্রসূতিদের অকালে মৃত্যুবরণ করতে হবে না।
ছিটমহল বিনিময় হলে আমাদের আর মিথ্যা পরিচয় দিয়ে স্কুলে পড়তে হবে না বলে জানালেন, গংগারহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী আয়শা সিদ্দিকা। সে বলে, এখন আমরা বলতে পারব বাংলাদেশের নাগরিক। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হবে।
এছাহক আলী(৭০) জানান, আমরা এখন খুবই খুশি। বাংলাদেশের নাগরিক। ধান, পাটসহ কৃষিপণ্য উৎপাদন করতে গেলে আগে সার কীটনাশক, তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ও ছিটমহলে নিয়ে আসতে সমস্যা হতো এখন আর তা হবে না।
মোবাইল ফোনে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত জানান, মমতার ঘোষনার পর ভারত-বাংলাদেশের ১৬২টি ছিটমহলে আনন্দের জোয়ার বইছে।
এব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের সভাপতি মইনুল হক ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খাঁন জানান, ছিটমহলগুলোতে মৌলিক অধিকার ও মানবিকতার জয় হয়েছে। আর ছিটমহল বিনিময় বিরোধীদের হয়েছে পরাজয়। দিদি মমতার সম্মতিতে এখন এটি ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া সময় অপেক্ষামাত্র। আশা করছি এটি দ্রুত পাশ হবে। পাশ হলে আমাদের ছিটমহলের মানুষেরা অবরুদ্ধ জীবন থেকে মুক্তি পাবে। অধীর আগ্রহে আমরা অপেক্ষা করছি।
জেআই





