পাবনার চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের হিড়িন্দা বাজার কেন্দ্রে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর আওতায় অতিদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি থেকে বিরত রয়েছেন ঐ ইউনিয়নের ডিলার ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আব্দুস সালাম।
সপ্তাহে তিন দিন (শুক্রবার, শনিবার ও মঙ্গলবার) এ কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশ থাকলেও তিনি সকল নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে গত শনিবার কোন প্রকার চাল বিতরন করেননি বলে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।
চাউল বিক্রি না করে ৮১ জন হতদরিদ্র কার্ডধারীর প্রায় আড়াই হাজার কেজি (৬১ মণ) আত্মসাত করেছেন বলে কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা গেছে, অতিদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রমের আওতায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফৈলজানা ইউনিয়নের ১,২,৩,৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডে উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের পরে গত মঙ্গলবার ও শুক্রবার অতিদরিদ্রকার্ডধারী কিছু সংখ্যক ব্যক্তিদের মাঝে চাল বিক্রি করা হয়। ঐদিন যারা চাল প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তাদেরকে আগামী দিনে দেওয়া হবে বলে জানান ডিলার সালাম। যারা চাল উত্তোলন করেননি পবাখালীসহ আশপাশের গ্রামের কার্ডধারী চাউল ক্রেতারা গত শনিবার সকালে চাল বিতরন কেন্দ্রে এসে দেখতে পান ঘর বন্ধ।
অনেকক্ষন অপেক্ষা করে হতদরিদ্র ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে ডিলার সালাম সেখানে হাজির হয়ে তাদেরকে আগামী মঙ্গলবারে চাল দেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন। অসহায় দরিদ্র ঐ সকল গরীব মানুষগুলো চাল না পেয়ে মন কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। ঐ সকল ওয়ার্ডে সর্বমোট ৬১৫ জন হতদরিদ্র কার্ডধারী রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই দিন আনে দিন খায় প্রকৃতির দরিদ্র মানুষ।
এ বিষয়ে ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ বলেন, আমার ওয়ার্ডের বেশ কিছু কার্ডধারী মানুষ চাল না পেয়ে আমার কাছে আসে। আমি তখন সালাম ডিলারের কাছে গিয়ে চাল বিতরনের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায়, চাল শেষ হয়ে গেছে আগামী মঙ্গলবার চাল দিবো।
চাল না দিলে ঘরে মজুদ থাকার কথা, কিন্তু তার ঘরে কোন চাল নেই। পরে কার্ডধারীরা বিষয়টি ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে অবগত করেন।ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: হানিফ উদ্দিন বলেন, অতিদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম নি:সন্দেহে সরকারের একটি মহৎ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। আমরা ইউনিয়ন ব্যাপী হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে দিয়েছি। ডিলাররা তাদের ১০ টাকা দরে চাল দিবেন। কিন্তু ডিলার সালাম প্রায় দেড় শ’ কার্ডধারীকে চাল দেননি। বিষয়টি জানার পরে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেগম শেহেলী লায়লা বলেন, বিষয়টি নিয়ে ফৈলজানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে অবহিত করেছেন। আমি ফুড অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ঐ ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
আগামীদিনের ডিলার পন্যের ক্ষেত্রে তার মজুদ ও বিতরনের হিসাব সুক্ষ ভাবে নিয়ে চাল বিতরনের অনুমতি প্রদান করা হবে।বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য ডিলার সালামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার মো. ওমর আলী জানান, আমি বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে পৌছে ওই ডিলারের ঘরে কোন চাউল অবশিষ্ট পাইনি। তবে খাতাপত্রে ৮১ জন কার্ডধারীর চাউল বিতরণ করা হয়নি উলেখ রয়েছে। এই গরমিল হিসাবের কারণে ওই ডিলারের খাতাপত্র জব্দ করা হয়েছে। এলাকাবাসী গরীব-দূস্থ্যদের চাউল আত্মসাতের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শািিস্তর দাবী জানিয়েছেন।
রাকিবুল/এসএম





