কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে শনিবার দিবাগত রাত আটটার দিকে দুই বাংলাদেশি জেলেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ধরে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ জেলেদের পরিবার ও স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ দুই জেলে হলেন টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া এলাকার মোহাম্মদ লালুর ছেলে মোহাম্মদ আনোয়ার (২৮) ও মোহাম্মদ শফির ছেলে আক্তার হোসেন (২৯)।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলের চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা হাসান আলীর মালিকানাধীন একটি নৌকা নিয়ে তিনজন জেলে নাফ নদীর হেচ্ছারখালের বিপরীতে মাছ শিকার করতে যান।
রাত আটটার দিকে বিজিপির একটি টহল দল স্পিডবোটে করে তাঁদের দিকে তেড়ে এলে জেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (নৌকার মালিক হাসান আলীর শ্যালক) নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে কূলে এলেও বিজিপির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নৌকায় থাকা দুই জেলেসহ নৌকাটিকে তাদের স্পিডবোটের সঙ্গে বেঁধে মিয়ানমারের দিকে নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে নৌকার মালিক হাসান আলী বলেন, বিজিপির সদস্যরা নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় কয়েকটি নৌকাকে ধাওয়া করে। এ সময় তাঁরা একটি নৌকা থেকে মুঠোফোন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। তার নৌকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে বলেন, টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির নির্দেশ উপেক্ষা করে হাসান আলীর নৌকাটি নাফ নদীর বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম করে মাছ শিকার করছিল। পরে বিজিপির সদস্যরা এসে নৌকাসহ দুই জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যান।
বিজিপির সদস্যরা ওই দুই জেলের মুক্তিপণ হিসেবে বাংলাদেশি এক লাখ টাকা দাবি করেছেন। কিন্তু মালিক হাসান আলী ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার জন্য রাজি হলেও দাবি করা টাকা না পাওয়ায় তাঁদের ছেড়ে দেননি।
অপহৃত দুই জেলের পরিবারকে হাসান আলী ফেরত আনার আশা দিয়ে রেখেছেন এবং সাংবাদিকদের কিছু না বলতে বারণ করায় ওই দুটি পরিবারের কেউ মুখ খুলছে না।
দুই জেলের নিখোঁজের বিষয়ে টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুজার আল জাহিদ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করার সময় নৌকাসহ দুই জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি মালিক আমাকে অলিখিতভাবে মুঠোফোনে জানিয়েছেন।
কিন্তু তাঁকে লিখিতভাবে জানাতে বললে আজ রাত আটটা পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ দেননি।’
এমবি





