এক কোটি টাকা মুক্তিপণ না দেওয়ায় পাবনায় স্কুলছাত্র হাবিবুল্লাহ হাসান মিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে তারই দুই সহপাঠীসহ তিনজন।
শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পাবনার মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. নাজিমুদ্দৌলার কাছে ১৬৪ ধারায় পৃথক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা এই তথ্য জানায়।
নিহত মিশু (১৫) পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে শুক্রবার জবানবন্দি দেয় সহপাঠী ফয়সল রহমান শুভ (১৫) ও মো. শামসুজ্জামান সিয়াম (১৫) এবং জনতা ব্যাংকের দারোয়ান মো. আবদুল হাদি (২২)।
ফয়সল রহমান শুভর বাড়ি পাবনা শহরের রাধানগর মাঠপাড়া এলাকায়। শামসুজ্জামান সিয়ামের বাড়ি নারায়ণপুর আর আবদুল হাদির বাড়ি নারায়ণপুর ডাকবাংলো এলাকায়।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ১৬৪ ধারার বরাত দিয়ে জানান, গত বুধবার সকালে প্রাইভেট পড়তে যায় মিশু। এ সময় তার সহপাঠী শুভ ও সিয়াম বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে পাবনা শহরের সিংগা এলাকার খানের লিচু বাগানে তাকে নিয়ে যায়।
সেখানে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় জনতা ব্যাংকের দারোয়ান মো. আবদুল হাদি। তারা তিনজনে মিলে মিশুর বাবার কাছে মোবাইলে ছেলের মুক্তিপণ হিসেবে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে চাঁদা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। চাঁদা না পেয়ে তারা তিনজন মিলে মিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ বস্তায় ভরে মুক্তিপণের টাকা কমিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে লাশটি বস্তাবন্দি করে তারা পালিয়ে যায়।
লিটন কুমার সাহা জানান, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মূলত মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
নিহত মিশুর বাবা উত্তরা মোটর্সের ডিলার মহসিন আলম সালাম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় মিশু। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার বন্ধু শুভর মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে মিশু জানায় কোচিং শেষ করে বাড়ি ফিরতে কিছুটা দেরি হবে। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
পাবনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, বুধবার রাতে শহরের সিংগা উত্তরপাড়ার সোবহান খানের লিচুবাগানে একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। বিষয়টি জানতে পেরে থানায় গিয়ে মরদেহটি মিশুর বলে শনাক্ত করে তার স্বজনরা।
এদিকে পাবনা কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মিশুকে হত্যার প্রতিবাদে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। স্কুল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে এসে মানববন্ধন করে।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে মিশুর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। তাদের দাবি মানা না হলে আরো কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেয় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
ওএফ





