স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) ও এর সহযোগী কয়েকটি সংগঠন।
বুধবার (০৬ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক সংগঠনগুলো হলো- দিনাজপুরের কাম টু ওয়ার্ক, কুমিল্লার দর্পণ, জামালপুরের আইজল, বরগুনার জাগো নারী, শরীয়তপুরের এসডিএস, কুষ্টিয়ার সেতু, স্বদেশ সাতক্ষীরা এবং চট্টগ্রামের ইপসা।
শুরুতেই ‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধ’ বিষয়ে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সংবাদ সম্মেলনের প্রধান আলোচক সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সমন্বয়কারী ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ।
সুপ্র’র চেয়ারপার্সন আহমেদ স্বপন মাহমুদের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য পাঠ করেন ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান এবং সম্মেলনপত্র পাঠ করেন সেতু’র নির্বাহী পরিচালক এম এ কাদের।
সম্মেলনে বক্তারা দাবি জানান, নাগরিক স্বাস্থ্যের সকল দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে। এক্ষেত্রে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বাস্থ্যকে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের হার প্রতি বছর কমছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, মাঝারি মানের স্বাস্থ্যসেবার জন্য যেখানে জিডিপির ৩ শতাংশ বরাদ্দ থাকা দরকার, সেখানে বরাদ্দ মাত্র দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে প্রদান করা হলেও সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। স্বাস্থ্যখাতে বেসরকারিকরণ ধনী এবং দরিদ্রের বৈষম্যকে সেবার ক্ষেত্রে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে কিছু দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপি’র কমপক্ষে ৩ শতাংশ এবং মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের সিংহভাগ বেতন-ভাতা বাবদ নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে ব্যয় করা এবং বাজেট ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ বাস্তবায়ন এবং ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৫ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সকল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এসটি





