বেসরকারি সংস্থা ‘ব্র্যাক’র প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

আজ (২২ ডিসেম্বর) রোববার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে আর্মি স্টেডিয়ামে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে ফজলে হাসান আবেদকে দাফন করা হবে বনানী কবরস্থানে।

জানাজার আগ মুহূর্তে স্যার ফজলে হাসান আবেদের ছেলে শামেরান আবেদ সবার উদ্দেশে বলেন, ‌“সবাই আমার বাবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ও অকৃত্রিম ভালোবেসেছেন। এজন্য আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। বাবা সারাজীবন সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করেছেন, সবার কথা চিন্তা করেছেন, আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।”

আজ সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ফজলে হাসান আবেদের মরদেহ সাদা ফুলে ঘেরা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে আর্মি স্টেডিয়ামে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই ব্র্যাকের কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষজন শ্রদ্ধা জানাতে অপেক্ষায় ছিলেন।

মরদেহ সেখানে রাখার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে মেজর আশিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপ-সামরিক সচিব কর্নেল মো. সাইফুল্লাহ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এবং আওয়ামী লীগের পক্ষে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- জাহাঙ্গীর কবির নানক, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আব্দুর রহমান। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. মো. তামিম আবেদের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান।

সকাল ৯টায় সর্বসাধারণের জন্য গেট খুলে দেয়া হয়েছে। একে একে মাঠে প্রবেশ করছেন সবাই।

স্যার ফজলে হাসান আবেদ শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তিনি স্ত্রী, এক মেয়ে, এক ছেলে ও তিন নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ফজলে হাসান আবেদের জন্ম ১৯৩৬ সালে। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৬ বছর। ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ওই সময় তার বয়স ৬৫ হয়ে গেলে তিনি নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব ছেড়ে দেন। এরপর ব্র্যাকের চেয়ারপারসন হিসেবে কর্মরত ছিলেন আরও ১৮ বছর। কয়েক মাস আগে তিনি সে পদটিও ছেড়ে দিয়ে অবসরে যান এই গুণী ব্যক্তি।

এমবি