একসময় জানতাম বাংলাদেশ গ্যাসের উপর ভাসে, কিন্তু এখন দেখি বাংলাদেশ পানির উপরে ভাসে, বিশেষ করে ঢাকা শহর ময়লা দূষিত পানির উপর ভাসে।
আর এই দূষিত পানির দায় ওয়াসাকে নিতেই হবে বলে জানান, ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলন।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের আয়োজিত নিরাপদ পানি ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা গণশুনানিতে এসব কথা বলা হয়।
ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, প্রকৌশলী এনামুল হক, জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ লেলিন, সাংবাদিক মনির হোসেনসহ প্রমুখ।
অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, পানি অতিরিক্ত ফুটানোর জন্য পানির গুনাগুন নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু যদি এ পানি যদি বিষাক্ত না হতো তাহলে ঢাকা শহরের মানুষ এতো রোগে ভুগতনা।
তিনি আরও বলেন, রিপোর্ট অনুযায়ী ৯৮% মানুষ নিরাপদ পানি পান করে, কিন্তু এ তথ্য সম্পন্ন ভুল।
আনু মোহাম্মদ বলেন, ওয়াসার যে পানি সরবরাহ করে তার ৩০% পানিতে আর্সেনিক আছে। অথচ ঢাকার চার পাশে নদী থাকা সত্ত্বেও ঢাকাবাসী নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না।
সাংবাদিক মনির হোসেন তাঁর বক্তব্যে ওয়াসার এমডিকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দেন।
প্রকৌশলী এনামুল হক বলেন, জুরাইন হচ্ছে ঢাকার সব থেকে দূষিত এলাকা। এখানে ঢাকার সবথেকে ময়লা পানি সরবারহ করে থাকে।
গণশুনানিতে অন্যান্য আলোচকরা তাদের এলাকার পানির সমস্যা তুলে ধরেন।
আপনার বাসায় ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির রঙ যদি ঘােলা কিংবা কালাে হয়, পানিতে যদি ময়লা, কেঁচো ইত্যাদির উপস্থিতি থাকে এবং সেই পানি যদি কটু স্বাদ ও গন্ধযুক্ত হয় তবে তা নিশ্চিতভাবেই ব্যবহার ও পানির জন্য নিরাপদ নয়।
যদি আপনার বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা পানি নিরাপদ না হয়, তবে সেই পানি আপনার ও আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য চর্মরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস, ডায়রিয়া, আমাশয়ের মতাে রােগের কারণ হতে পারে।
দূষিত পানিতে থাকা মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক, লেড, নাইট্রেট, ক্লোরাইড, ক্লোরাইড মানব শরীরে । ক্যান্সারের মতো রােগ সৃষ্টির কারণ হতে পারে।
এ ছাড়াও দূষিত পানি লিভার অকেজো হয়ে যাওয়া, প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, স্নায়ুবিক দুর্বলতা দেখা দেয়া, শিরদাঁড়ায় ব্যথা হওয়ার মতাে অসুস্থতা তৈরী করতে পারে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এ ধরনের অসুখ তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন অনিরাপদ পানি ব্যবহার করতে করতে একেবারে শেষ মুহূর্তে এসব রোগ ধরা পড়ে ।
এতে একদিকে পরিবারগুলাের ওপর চিকিৎসা ব্যয়ের বােঝা বাড়ে। অন্যদিকে অনেকেই এ অতিরিক্ত ব্যয়ের বােঝা মেটাতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে।
ওয়াসা নিরাপদ পানি আন্দোলন থেকে এ অসহনীয় অবস্থার অবসানে সরকার ও ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
১. যেসব বাসাবাড়ি, এলাকায় পানি নাই এবং বিষাক্ত নােংরা ময়লা পানি আসছে সে সব বাসাবাড়ি, এলাকায় অতিদ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে ।
২. দূষিত পানির কারণে জুরাইন, শ্যামপুর, মুরাদপুর, দনিয়ায় এ পর্যন্ত যারা অসুখ বিসুখের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ।
৩. পূর্বে সরবরাহকৃত পানি দূষিত হওয়া সত্ত্বেও এযাবৎকালে তার জন্য যে বিল পরিশােধ করা হয়েছে, সেই সমুদয় অর্থ গ্রাহক কে ফেরত দিতে হবে। ভবিষ্যতে সুপেয় পানি না পাওয়া পর্যন্ত অত্র অঞ্চলে মানুষ কোনাে বিল প্রদান করবেনা ।
৪. বছরের পর বছর কীভাবে নােংরা, দূষিত পানি সরবরাহ করল ওয়াসা, সেই বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে ।
৫. অসত্য বক্তব্যের জন্য ওয়াসার এমডিকে ক্ষমা চাইতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে পদত্যাগ করতে হবে।
৬.পানির সংকট সমাধান করতে হবে, না হয় গাড়ি দিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবারহ করতে হবে।
গণশুনানি থেকে বলা হয়, আমরা আর বোতলের পানি কিনে খেতে চাই না। আমরা সরাসরি টেপের পানি খেতে চাই। যদি আমাদের এ সুবিধা দিতে না পারে তাহলে ওয়াসার নিরাপদ পানির জন্য কঠিন আন্দোলন করা হবে।
এসএম/এএস





