বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। প্রতিদিনই নতুন নতুন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাসটি।

আর এই ভাইরাসটির আতঙ্কে ভুগছে উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা ক্যাম্পভিত্তিক করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্টার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহম্মদ জানান, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস নিয়ে মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে অথচ গাদাগাদি করে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তার উপর আইএনজিও সংস্থার লোকজন বিদেশ থেকে এখনো পর্যন্ত পরিদর্শনের নামে অবাধ ক্যাম্পে আসা যাওয়া করছে।

তাদের শরীরেও করোনাভাইরাস থাকতে পারে দাবি করে ওই রোহিঙ্গা নেতা বলেন, সোমবার (১৬ মার্চ) ক্যাম্পে লিডারশিপ সংক্রান্ত একটি সেমিনারে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ব্যাপারে বিষয়টি উত্তাপন করা হলে ইউএনএইচসিআর এর নেতৃবৃন্দরা দু এক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে আশ্বস্ত করেছেন।

কুতুপালং ক্যাম্পের পাশে আশ্রয় নেন প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। ওই ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুর জানান, এখনও সুযোগ বুঝে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার ও ক্যাম্পে আসা যাওয়া করছে। যেহেতু মিয়ানমারের সাথে চীনের সীমান্ত থাকায় মিয়ানমারও করোনাভাইরাস ঝুঁকিতে। তাই ওই ভাইরাসে আক্রান্ত রোহিঙ্গাদের কারণেও ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন বড়ুয়া বলেন, গত ১৪ দিন থেকে কোন বিদেশি যাতে ক্যাম্পে ঢুকতে না পারে সেব্যাপারে প্রশাসন তত্পর রয়েছে। তাছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদেশ থেকে কোনো লোক আসার সম্ভাবনা নাই। তথাপিও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, রামু ও চকরিয়ায় ১০০ বেডের একটি আইসোলেশন সেন্টার রয়েছে। তাছাড়া ক্যাম্পভিত্তিক যেসমস্ত ডায়েরিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টার রয়েছে সেগুলোকে আইসোলেশন সেন্টার হিসাবে ব্যবহার করার উপযুক্ত করে তোলা হয়েছে। ক্যাম্পে যে সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মী রয়েছে তাদেরকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্টের পর উখিয়া টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এদেশে পালিয়ে আসে আশ্রয় নিয়েছেন।

এমবি