গাইবান্ধার জোড়া লাগা যমজ শিশু তোফা ও তহুরা সংক্রমণের ঝুঁকিমুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে ৪৮ ঘণ্টা পর তারা কতটা ঝুঁকিমুক্ত সে বিষয়ে জানা যাবে।
আগামী ১০দিন তারা অস্ত্রোপচার পরবর্তী বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহনুর ইসলাম।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আশরাফ উল হক জানান, বর্তমানে বিকল্প মলদ্বার দিয়ে শিশু দু’টি মলত্যাগ করবে। ৬ মাস পর তাদের মলদ্বার বের করতে ফের অস্ত্রোপচার করা হবে। এরপর সেগুলোর মেরামত, মাসিক ও প্রস্রাবের রাস্তা বের করতে আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান জানান, তোফা ও তহুরা এখন সুস্থ আছে। তবে আশংকামুক্ত নয়। তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের দেখতে অহেতুক ভিড় না করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে তোফা ও তহুরাকে বুধবার অল্প করে স্বাভাবিক খাবার দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইনও চলছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গত কাল মঙ্গলবার কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্ম নেয়া যমজ শিশু তোফা ও তহুরাকে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করেছেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক দল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার ৯ ঘণ্টা ধরে চলে এ অস্ত্রোপচার।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঝিনিয়া গ্রামে রাজু ও সাহিদা দম্পতির কোল জুড়ে আসেন জোড়া কন্যা শিশু তোফা-তহুরা। তাদের সব অঙ্গ আলাদা হলেও প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা ছিল একটি। দেশের ইতিহাসে ‘পাইগোপেগাস’শিশু আলাদা করার ঘটনা এটিই প্রথম। গত বছরের ৮ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে আসেন তারা। সেসময় অপারেশন করে তাদের পায়ু পথ আলাদা করা হয়। সর্বশেষ গত ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো জোড়া শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এমবি





