কুষ্টিয়ার পদ্মায় ইলিশ ধরা থামছে না। ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা হচ্ছে ইলিশ। বিক্রিও হচ্ছে দেদারছে। মাছ ধরা ঠেকাতে প্রশাসনও রয়েছে নদীতে। কিন্তু মাছ ধরা থামছে না। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের কোন পদক্ষেপেই কাজে আসছে না। এ চিত্র কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পদ্মা নদীতে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার পদ্মা নদী প্রায় ৪০ কিলোমিটার বিস্তৃত।
এখানে তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে ৯’শ ৭২ জন। এরমধ্যে ইলিশ মাছ ধরার কাজে সম্পৃক্ত ৫৮৪ জন জেলে। মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ১২ অক্টোবর থেকে ২রা নভেম্বর ইলিশ মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষন নিষিদ্ধ করে। এ সময়ে পদ্মায় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যায় বলে এক শ্রেনীর অসাধু চক্রের সহযোগিতায় কিছু জেলেরা ইলিশ মাছ ধরার মহাৎসব শুরু করেছে। নিষিদ্ধের গত ১১ দিনেই প্রায় কয়েকশ মন ইলিশ ধরেছে জেলেরা।
এ যেন ইলিশ ধরার মহাৎসব। নদী উপকুল এলাকায় সব সময় যেন পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর ইলিশ। দামও সস্তা। যে কারনে জেলেদের সাথে ক্রেতারও বেসামাল। ভেড়ামারা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম সরোয়ার জানান, মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। একা প্রশাসনের পক্ষে মাছ ধরা বন্ধ করা সম্ভব নয়। যে কারনে চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে ২টি সচেতনতা মুলক সভা, ১৫’শ লিফলেট, ব্যানার, মাইকিং করা হয়েছে।
এ তৎপরতা কোন কাজেই আসেনি। স্থানীয়দের সহযোগিতা পাচ্ছি না। যে কারনে পদ্মায় মাছ ধরা থামছে না। গত ১১দিনে উপজেলা প্রশাসন ৪৬টি অভিযান চালিয়ে মাত্র ৫০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জেল দেওয়া হয়েছে ৪ জন জেলেকে। ৪৬ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জেলেদের জরিমানা করে ৩৯ হাজার টাকা আদায় ও করা হয়েছে এ সময়ে।
কিন্তু বন্ধ হয়নি ইলিশ ধরা। সোমবার সওে জমিন পদ্মা নদীতে গেলে স্থানীয়রা জানান, ভেড়ামারা ৪০ কিলোমিটার পদ্মা নদীতে যেন ইলিশ মাছ ধরার মহাৎসব চলছে। পদ্মায় প্রচুর নৌকা ইলিশ মাছ ধরায় ব্যাস্ত। প্রশাসন অভিযান চালিয়েও নিয়ন্ত্রন নিতে পারছেনা। স্থানীয় মোকারিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক মেম্বার বাবুল আক্তার জানান, জেলেরা সমাজের হতদরিদ্র শ্রেনীর অংশ।
২২দিন মাছ ধরা বন্ধ করলে জেলেদের না খেয়ে জীবন যাপন করতে হবে। সরকারের ঘোষিত ভাতা এ অঞ্চলের কোন জেলেই পায়নি। অথচ উপকুলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫৪ উপজেলার জেলেরা ২০ কেজি করে চাউলের সুবিধা পেয়েছে। ভেড়ামারা উপজেলার ৫৮৪ জন জেলে ভাতা পায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই জীবন জীবিকার তাগিদে তারা পদ্মা নদীতে নেমেছে। এ ক্ষেত্রে নিষেধ করেও কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তিমনি (ইউএনও) চাকমা জানান, গত ১১ দিনে উপজেলায় ৪৬টি অভিযান চালিয়ে ৫০ কেজি ইলিশ জব্দ করা করেছে। জেল দেওয়া হয়েছে ৪ জন জেলেকে। ৪৬ হাজার মিটার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জেলেদের জরিমানা করে ৩৯ হাজার টাকা আদায় ও করা হয়েছে। মাছ ধরা বন্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
জেড





