জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন তসলিমা নাসরিন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো উদ্যোগ নারীদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বলে দেখিনি।
বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন- প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
তসলিমা নাসরিন নারীদের পক্ষ থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি। নারীর পক্ষে কথা বলে দেশছাড়া হয়েছেন তিনি। দেশের কোনো নারী নেত্রী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্ষে কথা বলেননি।
ড. মিজানুর বলেন, নারীর অগ্রযাত্রায় মূল অন্তরায় হলো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও মৌলবাদ। এটি মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হলে নারী আন্দোলনের অস্তিত্ব থাকবে না।
আরো বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, সাংবাদিক আবেদ খানসহ অনেকে। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393414272.jpg[/img]
উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালের আগস্টে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। দেশব্যাপী তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেদিন সরকার তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ থেকে বের করে দেয়ার পাশাপাশি দেশের পত্রপত্রিকা ও প্রকাশকরা তার কলাম ও বই প্রকাশও বন্ধ করে দিয়েছিল।
১৯৯৮ সালে তসলিমা নাসরিন একবার বাংলাদেশে আসার সুযোগ পান এবং মাস তিনেক থাকার পর ধর্মপ্রান মানুষের চাপে রাষ্ট্র ও সরকার আবার তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তসলিমার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তখন সুইডেন তাকে সেদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393414520.jpg[/img]
সুইডিশ পাসপোর্টে ভারতের রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে তসলিমা কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। তার ভারতে পদার্পনের পর থেকেই ভারতীয় মুসলিম মৌলবাদীরা বোম্বে হায়াদ্রাবাদ ও কলকাতায় তার ভারতে অবস্থানের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলিম মৌলবাদীদের তাণ্ডবের পর আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার তসলিমাকে তার বাসস্থান ত্যাগে বাধ্য করে ও প্রাথমিকভাবে রাজস্থানে অজ্ঞাতবাসে পাঠিয়ে দেয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393414586.jpg[/img]
এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাকে রাজস্থান থেকে সরিয়ে দিল্লিতে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যায়। ৭/৮ মাস অজ্ঞাতবাসের পর ভারত ত্যাগের শর্তে তসলিমার ভারতের রেসিডেন্সি ভিসার নবায়ন করে তাকে ভারত ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
২০০৮ সালে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাসপোর্টের আবেদন করলে তার আবেদন যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন তসলিমা তার ইউরোপিয়ান পাসপোর্টে ‘বাংলাদেশ ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন নেই’ এই ছাপ মারতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201402/1393414659.jpg[/img]
এতেও প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি সাধারণ টুরিস্ট ভিসার আবেদন করেন এবং তাতেও প্রত্যাখ্যাত হন। আর এসব কিছুর পর ২০০৮ সালেই বাংলাদেশ সরকার তার ‘কালো তালিকা’য় তসলিমা নাসরিনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে।
২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে বেশ কয়েকবার তিনি বাংলাদেশে এসে বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কিন্তু সরকার থেকে এখনো কোনো আশ্বাস বা অনুমতি তসলিমা পাননি। এরমধ্যে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে তিনি আবার দিল্লির অজ্ঞাতবাসে ফিরে আসেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি অজ্ঞাতবাসেই সিদ্ধান্তহীনভাবে দিন কাটাচ্ছেন।
[b]ঢাকা,২৬ ফেব্রুয়ারি(টাইমনিউজবিডি.কম) // এএইচ // কে বি
[/b]
জাতীয়
তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে নয় নারী নেত্রীরা: ড. মিজান
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেছেন তসলিমা নাসরিন নারীদের অধিকার নিয়ে কথা বলে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো উদ্যোগ নারীদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে বলে দেখিনি।





