বন্যার্তদের ত্রাণ না পাওয়া সংক্রান্ত বিএনপির চেয়ারপারসনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, "বন্যা দুর্গত জেলাগুলোতে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের কোনো অভাব নেই।"
মন্ত্রী আরোও বলেন, "সব ক্ষতিগ্রস্তরা রিলিফ চায় না। যাদের রিলিফ প্রয়োজন, তাদের আমরা দেব। অন্যদের কৃষিঋণসহ অন্য পুর্নবাসন সহায়তা দেওয়া হবে।" আজ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের প্রাক্কালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব এসব কথা বলেন তিনি।
ত্রাণমন্ত্রী ও দূর্যোগমন্ত্রী বলেন, "বন্যার পানি নেমে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের বাড়িঘর পুনঃর্নিমাণ করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মধ্য আগস্টে আরো একটি বড় বন্যার পূর্বাভাস রয়েছে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব নেই। পর্যাপ্ত চাল ও টাকা রয়েছে। আমরা সেটা দিয়েই বন্যা মোকাবিলা করতে পারব।" পরে মন্ত্রী রৌমারী উপজেলার বলদমারা ঘাটে ২০০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেন। এ দিকে রৌমারী উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বানভাসিদের মাঝে ১৮৮টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। আরো ১০০ মে.টন চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়ার ঘোষণা দেন।
এছাড়াও নদীভাঙ্গা গৃহহীনদের জন্য দুইশ’ বান্ডিল ঢেউটিন ও ৬ লাখ টাকা বরাদ্ধও দেয়া হবে বলে জানান তিনি। দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয়ের সচিব শাহ্ কামাল, মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন, পুলিশ সুপার তবারক উলাহ।
ত্রাণ মন্ত্রীকে ঘিরে সংক্ষিপ্ত সভায় স্থানীয়দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় এমপি রুহুল আমিন, সাবেক এমপি ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি জাকির হোসেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের, স্থানীয় আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মিনুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্ধ।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুলাহ আল মামুন তালুকদার জানান, উপজেলার বলদ মারা, খেদাইমারী এলাকায় বানভাসিদের মাঝে নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেন মন্ত্রী। স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন জানান, রৌমারী উপজেলা ও সাহেবের আলগা, অষ্টমীর,দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে বন্যায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রৌমারী সদর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সালু বলেন, বাংলাদেশের মধ্য একটি মাত্র অবহেলিত অঞ্চল রৌমারী আর সেখানেই আমাদের জন্ম, তাই সরকার আমাদের যদি এই নদী ভাঙ্গন রোধ করে। তাহলে আমাদের ছোট একটি উপজেলা রৌমারীকে টিকানো সম্ভব হবে।
একই দিনে রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ। এসময় উপস্থিত ছিলেন আ’লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কুড়িগ্রাম জেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী।
রাজীবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল আলম জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক হানিফ কোদালকাটি ইউনিয়নের বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।
এসএ





