নোয়াখালীতে ইয়াসমীন (১৮) নামে এক কিশোরীকে একই গ্রামের যুবলীগ ক্যাডার আবুল বাশার বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনার ৪২ দিন পরও চরজব্বার থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিশোরী ইয়াসমীন নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের চরজব্বার গ্রামের মৃত মোঃ ছিদ্দিক উল্লাহর মেয়ে।

জানা গেছে, ওসিকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় ভিকটিম ও তার মা সুফিয়া বেগমকে কোর্টে মামলা না করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে সমঝোতার সালিশ করতে নির্দেশ দেয়।

সর্বশেষ নিরুপায় হয়ে গতকাল রোববার মৃত মোঃ সিদ্দিক উল্লাহর স্ত্রী সুফিয়া বেগম ও ভিকটিম কিশোরী ইয়াছমিনসহ নোয়াখালী পুলিশ সুপারের কাছে যুবলীগ ক্যাডার লম্পট ধর্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার দাবি করে লিখিত অভিযোগ করেছে।

পুলিশ সুপার ইলিয়াস শরীফ চরজব্বার থানার ওসিকে আইনগত সহায়তা দিতে সুফিয়া বেগম ও তার ধর্ষিতা মেয়েকে থানায় যেতে নির্দেশ দেন।

এলাকাবাসী ও অভিযোগে জানা যায়, সুফিয়া বেগম অভাব অনটনের তাগিদে তার বাড়ির পুকুর একই গ্রামের সেকান্দরের ছেলে যুবলীগ ক্যাডার আবুল বাশারের কাছে গত ১ বছর আগে মৎস্য চাষ করতে ইজারা দেয়।

পুকুর ইজারা নেওয়ার সুবাদে লম্পট আবুল বাশার সুফিয়া বেগমের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে আসা যাওয়া করে ইয়াছমিনকে উত্যক্ত করে। এক পর্যায়ে আবুল বাশার সুফিয়া বেগমের অনুপস্থিতিতে ইয়াছমিনকে অবৈধ কাজের প্রস্তাব দিলে ইয়াছমিন অবৈধ প্রস্তাবে রাজি না হয়ে তার মাকে জানায়।

আবুল বাশার ইয়াছমিনকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে তার সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। সুফিয়া বেগম ৫ জানুয়ারী রাতে বসত ঘরে ইয়াছমিন ও তার ছোট ২ শিশুকে রেখে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়।

এই সুযোগে লম্পট আবুল বাশার রাত ১২ টায় আবারও বসত ঘরের দরজার ছিটকারি খুলে ভিতরে ঢুকে ঘুমন্ত ইয়াছমিনকে চেপে ধরে ধর্ষন করেছে। আবুল বাশার সুফিয়া বেগমের অনুপস্থিতিতে বসত ঘরে এসে ভিকটিমকে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহার করেছে।

ভিকটিম ইয়াছমিন আবুল বাশারের ব্যাপারটি তার মা সুফিয়া বেগম ও স্থানীয় মেম্বারকে জানায়। এ ব্যাপারটি জানাজানি হয়ে গেলে লম্পট আবুল বাশার পালিয়ে যায়।

এদিকে সুফিয়া বেগম ও ভিকটিম ইয়াছমিন আবুল বাশারের বিরুদ্ধে থানায় ধর্ষনের মামলা করতে গেলে ওসিকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ না দেওয়ায় মামলা রেকর্ড না করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে সমঝোতার সালিশ করতে নির্দেশ দেয়।

স্থানীয় চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম ও মেম্বার ছেরাজুল হক কোর্টে মামলা না করে ভিকটিম ও তার মাকে সমঝোতা সালিশ করার অজুহাতে বিলম্ব ঘটায়। অবস্থা বেগতিক দেখে সর্বশেষ সুফিয়া বেগম ও ইয়াছমিন চেয়ারম্যান ও ওসির ভয়ে কোর্টে মামলা না করে রোববার সকাল সাড়ে ১০ টায় পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

সুফিয়া বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, যুবলীগের ক্যাডার লম্পট আবুল বাশার আমার অনুপস্থিতে মেয়েকে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভনে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করেছে। পরবর্তীতে বিয়ে না করে আবুল বাশার আমার মেয়ের জীবন সর্বনাশ করে সটকে পড়ে।

থানায় মামলা করতে গেলেও ওসি কে মোটা অংকের ঘুষ না দেওয়ায় এজাহার রেকর্ড না কওে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে পাঠায়। চেয়ারম্যান ও মেম্বার কোর্টে মামলা করতে না দিয়ে সমঝোতা সালিশের নামে হয়রানি করছে।

চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষনের মামলা সালিশ করার চেয়ারম্যানের কোনো বিধান নাই। তবুও দু’গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা সালিশে ভিকটিম এলেও ধর্ষক অনুপস্থিত। এতে আমার করার কিছুই ছিল না।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক থানার পুলিশ জানান, চরজব্বর থানায় এই ওসি যোগদানের পর থেকে টাকা ছাড়া কোনো মামলা রেকর্ড করে না। সাধারন মানুষকে বিএনপি ও জামায়াত কর্মী ও সমর্থক সাজিয়ে লাখ লাখ টাকা মামলা ও গ্রেফতার বানিজ্য করেছে।

গত ২১ ফেব্রুয়ারী রাত ১২ টা ১ মিনিটে ওসি স্থানীয় শহীদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পন করলেও এ ব্যাপারে জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হলেও ওসি বহাল তবিয়তেই আছেন।

এদিকে চরজব্বর থানার ওসি এনামুল কবির জানান, বিয়ের প্রলোভনে ভিকটিম ইয়াছমিনকে আবুল বাশার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ব্যবহার করছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে সমঝোতার সালিশ করার চেষ্টায় মামলা রেকর্ড করতে বিলম্ব হচ্ছে।

এমকে