বাস্তবতা বিবেচনা না করেই বাস মালিকদের একের পর এক রুট পারমিট দেয়ায় রাজধানীর গণপরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে বিশৃঙ্খলা।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় অনেক রুটের সঙ্গে গড়ে উঠছে অসংখ্য বাস কোম্পানি। ফলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে পরিবহন খাত। যদিও বিআরটিএ'র দাবি, যৌক্তিক কারণেই দেয়া হয়েছে রুট পারমিট।
রাজধানীর গণপরিবহনের এই স্থবিরতার চিত্র এখানকার বাসিন্দাদের কাছে নতুন কিছু নয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা। কর্মব্যস্ত কিংবা ছুটির দিন। প্রতিনিয়তই যানজটের সাথে মোকাবেলা করে পথ চলছেন তারা।
এই যখন বাস্তবতা, ঠিক তখন বিআরটিএ চলছে উল্টো পথে। গেল বছর রাজধানীর গণপরিবহনে রুটের সংখ্যা ছিল ১৭০ টির মত। তবে এক বছর না পেরুতেই এই সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে প্রায় তিনশতে। প্রায় দুই কোটি মানুষের এই শহরে আয়তন যেমন কম, তেমনি রাস্তাও ছোট। কিন্তু রুটের কোন কমতি নেই এই নগরে।
দেখা যায়, রাজধানীতে মোটাদাগে উত্তর- দক্ষিণমুখী বড় রাস্তা ৪টি। এগুলো উত্তরা, মিরপুর, গাবতলী থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ঢাকার দক্ষিণে।
এছাড়া পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী রাস্তা আছে অন্তত: ২টি। তবে হাতে গোনা এই ক' টি বড় রুটে হিজিবিজি করে সৃষ্টি করা হয়েছে প্রায় তিনশরও বেশি রুট।
২০১৪ সালে এএলজি নামের স্প্যানিশ একটি পরিবহন কোম্পানি ঢাকার গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে রুট পুনর্বিন্যাসসহ একটি সুপারিশমালা পেশ করে সরকারের কাছে। তবে প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি সরকার।
বিআরটিএ বলছে, মালিকদের চাহিদা থাকায় দেয়া হয়েছে রুট পারমিট।

বিআরটিএ রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মো.মাহবুব-ই রাব্বানি বলেন, অবৈজ্ঞানিক ভাবে রোড পারমিট দেয়া হয়, সেটা ঠিক নয়। সেই রুটের অবকাঠামো ও চাহিদা বিবেচনা করে পারমিট দেয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন নগরীতে যানজট, যাত্রী-ভোগান্তি, বিশৃঙ্খলা আর গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণহীনতার পেছনে আছে রুটের এই অযৌক্তিক বিন্যাস।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড.শামসুল হক বলেন, একই করিডোরে মাল্টিপল অপারেটর থাকার কারণে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বেড়েই চলছে। এতে করে জণগণই সুবিধা পাচ্ছে না। অপারেটরও যাত্রী ছিনতাই করতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের রাস্তা সংখ্যা তিনটিই রয়েছেন। এর মানে বসে বসে আমি অসুস্থ প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করলাম। আর কিছু ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে যানজট নিয়ন্ত্রণ করবো, এই গুলো অপেশাদারি কথাবর্তা
তাদের মতে এখুনি ব্যবস্থা না নিলে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে পরিবহন খাত।
বিআরটিএ'র তথ্য মতে রাজধানীতে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা প্রায় সাড়ে একুশ হাজার।এএস





