চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দ হওয়া বস্তাভর্তি ৫৮ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় ঘুষ দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে জেলা প্রশাসনের এক সার্ভেয়ারের ছাড়াতে আসা এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে দেওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে টাকাগুলো ঘুষের বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার আদালতে গ্রেফতার আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।

এদিকে, বস্তাভর্তি টাকাসহ ইলিয়াস (৩২) নামের ওই ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের এল এ শাখায় ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত দুই দিনে ১২ জনকে বদলির  আদেশ দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ।

এদের মধ্যে দু’জন কানুনগো ও বাকি ১০ জন সার্ভেয়ার।  বদলি হওয়া এসব সার্ভেয়ারদের মধ্যে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে আসা জেলা প্রশাসনের সার্ভেয়ার শহীদুল ইসলাম মুরাদও রয়েছেন।

বদলির বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে টাকাসহ ইলিয়াস আটক হওয়ার পর থেকেই পুলিশকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে যাচ্ছে।  ইলিয়াসকে আটকের পর নানা ধরনের তথ্য আসতে থাকে পুলিশের কাছে।

এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে এবং ইলিয়াসের কল লিস্ট থেকে সার্ভেয়ার মুরাদ ও পদস্থ কর্মকর্তাদের কথা হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ইলিয়াসের মোবাইল ফোন থেকে সার্ভেয়ার মুরাদ এবং উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কথা বলার তথ্য পুলিশের হাতে এসেছে। এই কারণেই তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

এ পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ইলিয়াসের বিরুদ্ধে ৫৪ ধারায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মো. কামরুজ্জামান।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নওরিন আক্তার কাকন বৃহস্পতিবার তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন।

এসআই মো. কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা পাঁচদিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম। আদালত বৃহস্পতিবার শুনানির সময় নির্ধারণ করেছেন। শুনানির সময় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম আদালতের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সড়কে পুলিশের চেকপোস্টে টাকার বস্তাসহ ইলিয়াস আটক হন। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা এলাকায়।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনজুর মোরশেদ জানান, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় ওই ব্যক্তির কাছে থাকা চটের বস্তায় তল্লাশি চালিয়ে টাকাগুলো পাওয়া যায়।

এসময় তাকে আটক করে টাকাগুলোর উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও সে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য দিতে পারেনি।

এএইচ