যশোর বেনাপোলে নূরন্নবী (২১) নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগে বেনাপোলে এক ভুয়া চিকিৎসকের স্ত্রী ও শ্যালককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

বুধবার রাত ১০টার দিকে তাদের পুলিশে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী নুরন্নবী পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার অবস্থা গুরুতর।

আটক ব্যক্তিরা হলেন-নড়াইল জেলার খড়িয়া কদমডাঙ্গা গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার বুলু মোল্লার স্ত্রী ইরানী (২২) ও শ্যালক চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পাঁচগ্রামের বাসিন্দা রিপন ফারাজী (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নুরন্নবী প্রসাবের যন্ত্রনায় ভুগছিলেন। প্রতিকারের জন্য গোপনভাবে বাশার নামে এক দালালের মাধ্যমে ২০ আগস্ট তিনি হাতুরে ডাক্তার বুলু মোল্যার বাড়িতে যান।

এসময় তার পুরুষাঙ্গে অপারেশন করা লাগবে বলে জানান বুলু মোল্লা। ২০ হাজার টাকায় তিনি অপারেশন করবেন বলে নুরন্নবীর সঙ্গে তার চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী ২২ আগস্ট টাকা নিয়ে বুলুর বাড়ি যান নুরন্নবী।

এসময় নুরুন্নবীকে ঘরের ভেতর নিয়ে গিয়ে অপারেশনের নামে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেন তিনি। পরে অসুস্থ অবস্থায় দালাল বাশারের মাধ্যমে নুরুন্নবীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হলে নুরুন্নবী বেনাপোলের একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। ক্লিনিক থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি বাড়ি ফিরলেও তার অবস্থা খুব ভালো নয়।

নুরুন্নবীর পরিবারের লোকজন ভুয়া ডাক্তারকে ধরতে কৌশল অবলম্বন করেন। তারা নুরুন্নবীর আরেকটি অপারেশন করার কথা বলে বুলুকে বেনাপোলে আসতে বলেন।

এসময় বুলু নিজে না এসে তার স্ত্রী ও শ্যালককে অপারেশনের ‘সরঞ্জাম’সহ বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের গণপিটুনি দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, আটক দু’জনের বিরুদ্ধে অঙ্গহানির অভিযোগে ৩২৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিকেলে তাদের নড়াইল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এছাড়া দালাল বাশার ও ভুয়া ডাক্তার বুলু মোল্লাকে আটক করার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ