মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার খাবাসপুর গ্রামে প্রতিবেশী স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের দায়ে প্রধান আসামি ও তার দুই সহযোগীকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের করা হয়েছে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড।
আর এই মামলার আরেকটি ধারায় প্রধান আসামিকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম করাদণ্ড। প্রথম সাজা শেষে তাকে দ্বিতীয় সাজা ভোগ করতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল বিচারক হাছিনা রৌশন জাহান এই কারাদণ্ডাদেশ দেন।
কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্তরা হলেন- প্রধান আসামি ওই গ্রামের সাত্তার শিকদারের ছেলে মো. সিকান্দার শিকদার (৩৫) এবং সহযোগী একই গ্রামের রমিজ উদ্দিন শিকদারের ছেলে মো. বাবুল শিকদার (৩৬) ও সাদেক মোল্লার ছেলে মো. মোসলেম মোল্লা (৩৫)।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির ছিলেন তারা।
মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ২০০৫ সালের ১৯ নভেম্বর ওই গ্রামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। এ সময় বাবুল ও মোসলেমের সহযোগিতায় তাকে ট্রলারে উঠিয়ে (ইঞ্জিনচালিত নৌকা) অপহরণ করে নিয়ে যান সিকান্দার।
স্থানীয় বালিরটেক বাজারের পূর্ব পাশের কালিগঙ্গা নদী দিয়ে ট্রলারে যাওয়ার পথেই মেয়েটাকে ধর্ষণ করেন সিকান্দার।
এরপর এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭/৯(১) ও ৭/৩০ ধারায় সিকান্দারকে প্রধান এবং বাবুল ও মোসলেমকে সহযোগী আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন ওই স্কুলশিক্ষার্থী।
পরের বছরের ১ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তর হয়ে ২৭ দিন পর জামিনে ছাড়া পান সিকান্দার। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
এরপর বিভিন্ন কার্যদিবসে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে আদালত। রায় ঘোষণা ধার্য দিনে প্রধান আসামি সিকান্দারকে একটি ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ছয় হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারক।
আরেকটি ধারায় তাকে দেয়া হয়েছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড।
অপহরণ ও ধর্ষণে সহযোগিতা করায় বাবুল ও মোসলেমকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ছয় হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তবে, সিকান্দারের সাজা থেকে প্রথম হাজতবাসের ২৭ দিন বাদ যাবে। সকল আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ারা ইস্যুর আদেশ দিয়েছেন মানিকগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের ওই বিচারক।
রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি একেএম নুরুল হুদা রুবেল ও আসামি পক্ষে মো. দেলোয়ার আলম খান মামলাটি পরিচালনা করেন।
এমআর





