বাইরের হস্তক্ষেপ ছাড়াই যেন মুসলিম দেশগুলোর সমস্যার সমাধান হয় সেজন্য সংঘাতে লিপ্ত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে এক টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

ঢাকা সফররত ওআইসির মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।

বৈঠকে মাদানি বলেন, সন্ত্রাস মোকাবেলায় ওআইসি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন দেখতে চাই।

মহাসচিব জানান, ইরাক-সিরিয়া-লিবিয়াসহ সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে বিদ্যমান সমস্যার সমাধানের জন্যও ওআইসি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে ওআইসি মহাসচিবকে বলেন, সংঘাতে জড়ানো পক্ষগুলো একত্রে বসতে পারে এবং আলোচনা করে নিজেরাই অন্যদের (বহির্শক্তি) হস্তক্ষেপ ছাড়া সমস্যার সমাধান করতে পারে।

ওআইসি মহাসচিব বাংলাদেশসহ জোটভুক্ত দেশগুলোকে সন্ত্রাস দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণরা কেন এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়াচ্ছে, তার মূল কারণ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

বৈঠকে মাদানিকে প্রধানমন্ত্রী জানান, তার সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে রয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস এখন বৈশ্বিক সমস্যা। আমার পরিবারও সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলামের নামে তারা মানুষ হত্যা করছে। এর মাধ্যমে তারা ইসলামের বদনাম করছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে ইসলাম হেয় হচ্ছে। এ ধরনের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও ওআইসি কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে।

এছাড়া, সন্ত্রাস মোকাবেলায় ওআইসির গৃহীত পদক্ষেপেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বৈশ্বিক সন্ত্রাস, মুসলিম দেশগুলোতে অন্তর্ঘাতমূলক সংঘাত এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণমূলক বিষয়ে আলোচনা হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) স্থায়ী পর্যবেক্ষক মিশনে ওআইসির দূত হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইসমত জাহান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া প্রমুখ।

এসএম