হাজারো উৎসুক জনতার মাঝে একটি ছবি নজর কেড়েছে সবার। একটি ছোট্ট শিশু ফায়ার সার্ভিসের ফাটা পাইপ দিয়ে বের হয়ে যাওয়া পানি আটকে রাখার চেষ্টা করছে।

এই সেই হিরো!! গতকাল পানির পাইপে পলিথিন দিয়ে চেপে রেখেছিল যাতে করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে পারেন তারাতারি।

শিশুটির চোখেমুখে চরম উদ্বেগ আর ‍উৎকণ্ঠা। বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার ছবি।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের সূত্রপাত হয়।

রাজধানীর বনানীতে এফ আর টাওয়ারে আগুনে নিহত হয়েছেন ২৫ জন। আগুনে আহত ৫৯ জনের মধ্যে ৩৩ জন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল।

শুক্রবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বনানীর এফ আর টাওয়ারের সামনে আবার এসেছিলো শিশুটি।শিশুটির নাম মো. নাঈম ইসলাম। কড়াইল বস্তিতে বাবা-মা ও এক বোনের সঙ্গে বসবাস তার। স্থানীয় আরবান স্ল্যাম আনন্দ স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সে।

আগুনের খবর শুনেই বনানীতে ছুটে আসা নাঈম। ভিড় ঠেলে এফআর টাওয়ারের আগুন নিভাতে নিজ তাড়নাতেই ফায়ার সার্ভিসের পাইপ ধরে অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করে।

ভবনের গ্লাস ভেঙে পড়ে তখন অন্যরা নাঈমকে দূরে সরিয়ে দেয়। পাশে তাকিয়ে নাঈম দেখে একটি পানির পাইপ ফেটে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। তখন পাশর একটি পলিথিন কুড়িয়ে তা দিয়ে পাইপের ফাটা অংশটি চেপে ধরে নাঈম।

নাঈম বলে, আমি কোন ভয় পায়নি, ওই সময় আল্লার কাছে সবাই দোয়া করছিলো ভেতরের মানুষগুলা যেন বাঁচে। আমিও চাইছিলাম একটু সাহায্য করে যদি কাউকে বাঁচানো যায়।

নাঈম আরো জানায়, বাসায় যাওয়ার পর তার নানী ও এলাকার অন্যরা সবাই তাকে বাহবা দিয়েছে। সবাই জড়িয়ে ধরেছে। নানী বলেছে, তোর ছবি দেখছি, ভালো কাজ করছিস!

এসময় নাঈমের ইচ্ছা জানতে চাইলে নাঈম বলে, আমি পড়াশুনা করে বড় হয়ে পুলিশ অফিসার হবেন।

এএস