পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটী ইউনিয়নের বুড়ি-তিস্তার শাখা নদীতে অপরিকল্পিতভাবে একটি সুইস গেট নির্মাণের কারণে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে বহু আবাদি জমি ও স্থাপনা। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি স্থাপনাসহ একটি বাজার নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুস্ক মওসুমে নদীতে পানি না থাকলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০০৫ সালে দেবীগঞ্জের চিলাহাটী ইউনিয়নের শেখ বাঁধা ফুলবাড়ীতে বুড়ি-তিস্তার শাখা নদীর ওপর একটি সুইস গেট নির্মাণ করে।
সুইস গেট নির্মাণের সময় ভাটি অংশ রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃক্ষ। বর্ষা মওসুমে উজানে পানি বেশি হলে গেট খুলে দেয়ার পরই শুরু হয় ব্যাপক নদীভাঙন। ইতোমধ্যে সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের ৫৫ শতক জমির মধ্যে ৩৭ শতক জমি বিলীন হয়ে গেছে।
নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ফেডারেশনের শস্যগুদামের বেশির ভাগ স্থানে বড় ধরনের ফাটল ধরায় তা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। টয়লেটের নিচেরও মাটি সরে যাচ্ছে। যেকোনো সময় এটি বিলীন হয়ে যাবে। ফেডারেশনের দক্ষিণ পাশের ফুলবাড়ী দুর্গা মন্দিরের ১৮ শতক জমির মধ্যে এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র পাঁচ-ছয় শতক। এ ছাড়াও নদীর পূর্ব অংশেও ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশালাকার বাঁশঝাড় উপড়ে পড়েছে নদীতে। বিলীন হচ্ছে আবাদি জমিও।
আগামী বর্ষা মওসুমের আগেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে ফেডারেশন ভবন ও দুর্গা মন্দির নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। হুমকির মধ্যে পড়বে ফুলবাড়ী বাজারসহ পঞ্চগড়-দেবীগঞ্জ সড়ক।
ইউপি সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান জয়দেব চন্দ্র রায় জানান, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে ফেডারেশন ভবন নির্মাণ করা হয়। সে সময় ফেডারেশনের ৫৫ শতক জমি থাকলেও এখন অবশিষ্ট আছে মাত্র ১৮ শতক। কিন্তু নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় ফাটল ধরায় দুই বছর আগে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অর্থাভাবে কাজ শুরু করার পর তা বন্ধ রয়েছে।
আগামী বর্ষা মওসুমের আগে এখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ফেডারেশনের ভবনসহ সব স্থাপনা বিলীন হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুবাস কুমার সাহা বলেন, সুইস গেটের কারণে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এমন অভিযোগ আমাদের কেউ করেনি। তবে উজানে পানি সরবরাহের জন্য পাকা ড্রেন করার প্রস্তাব পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।





