দিনাজপুরের পার্বর্তীপুরে মস্তিক বিতর্কিত কারণে শিকলে বন্দী জীবন যাপন করছেন দুই সন্তানের জননী রেহেনা বেগম (৪০)।

সব সময় বিরবির করে আপন মনে কথা বলে। ছেড়ে দিলে লোকদের ওপর চড়াও হয় ও ভাংচুর করে। কিছুদিন আগে একবার চিকিৎসা শুরু হলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারেনি রেহেনার বৃদ্ধ পিতা আলা বক্স।

দাগলাগঞ্জ দোলাপাড়ায় মৃত জমির উদ্দিনের সাথে বিয়ে হয়েছিল রেহেনার। দুই পুত্র সন্তানের জনক হওয়ার কিছুদিন পরে মারা যান জমির উদ্দিন।

স্বামীর মৃত শোক, অভাবের সংসারে স্বামীর কিছু আবাদী সম্পত্তি রেখে গেলেও দুই সন্তান তা বিক্রি করে দেওয়ায় নিঃশেষ হয়ে যায়।

তারপর থেকে তিনি মস্তিক বিতর্কিত ঘটায় দিনে দিনে হয়ে পরে অসুস্থ। উপজেলার বেলায় চন্ডী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হরিরামপুর ভাটিপাড়া গ্রামে তার পিতার বাড়ীতে এখন তার বসবাস।

এ বিষয়ে রেহেনার পিতা আলা বক্স জানান, অসুস্থ হয়ে গেলে তার দুই সন্তান আর তাকে দেখাশুনা করেন না। সন্তানরা ফেলে দিলেও তো আমি বাবা হয়ে তাকে ফেলে দিতে পারি না। বিগত ৫ বছর ধরে সে আমার কাছে আছে।

রেহেনাকে বেধে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, যদি বেধে না রাখা হয় তাহলে সে নিজে যেখানে খুশি সেখানে চলে যায়। এর আগে অনেকবার সে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছিল। ১০/১৫ দিন তাকে খুজে পাওয়া যায় নি।

অনেক কষ্টে খুজে পেলে তাকে বেধে রাখা হয়। পরবর্তী থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত বেধে রাখা হয়। আমি বৃদ্ধ মানুষ কোথায় তাকে খুজে বেড়াব।

টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না তার পরিবার। যদি কোন ব্যক্তি আর্থিকভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তবে রেহেনা সুস্থ জীবনে ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তার পরিবার।

জসিম/এমবি