ইউনাইটেড হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়ার পর টাকার জন্য লাশ আটকে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। ঘটনাটিকে করুণ ও হৃদয়বিদারক বলে আখ্যায়িত করে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে নোটিশ দিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজী।

সোমবার দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ১১ম কার্যদিবসে স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে এ নোটিশ দেন তিনি।

নোটিশে বলা হয়, মৃত্যুর পর লাশ আটকে রেখে যে করুণ ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে, তাতে নতুন করে স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

রুস্তম আলী ফরাজী নোটিশে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জাতি হিসেবে আমাদের মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে। এর দায় সরকার এড়াতে পারে না, স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া কোনো দায় নয়, এটা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

২০১০ সালের প্রণীত স্বাস্থ্য নীতি অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার। সংবিধানের ১৫(ক) ধারা অনুযায়ী স্বাস্থ্য সেবার যাবতীয় উপকরণের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। অথচ বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণে জনগণের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক শ্রেণির মুনাফালোভী চিকিৎসার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরকারি ও জনগণের পকেটের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কোথাও কোথাও গরিবের রক্ত চুষে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসা এখন আর সেবা নয়, পণ্য ও বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। মুনাফালোভী কোম্পানি বিশেষ করে ওষুধ কোম্পানি, ক্লিনিক মালিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি দিনে দিনে অর্থ আদায় করে নিচ্ছে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে কোথাও দেখার কেউ নেই। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

অন্যদিকে পেশাজীবী চিকিৎসক, নার্স, টেকনেশিয়ান, ডিপ্লোমাধারী চিকিৎসক, প্যারামেডিকসসহ সংশ্লিষ্টরা লেজুড়বৃত্তির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে গবেষণা ও রোগীর প্রতি আন্তরিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়ানোর সময় কোথায় তাদের।

আর এই লেজুড়বৃত্তির কারণেই সরকারি হাসপাতলে এতো অভিযোগ। অন্য দিকে বেসরকারি হাসপালগুলো গলাকাটা পদ্ধতি অবলম্বন করে। রোগীর স্বজনদের নিস্ব করে ছাড়ে। মানুষ যাবে কোথায়? পেশাজীবীদের মধ্যে হতে দলীকরণ সরাতে না পারলে স্বাস্থ্য সেক্টরের উন্নতি করা সম্ভব নয়। এ জন্য চাই একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা।

ঢাকা, ১৫ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ