অব্যাহত পদ্মা নদীর ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে রাজশাহী মহানগরীর বুলনপুর শহররক্ষা বাধ। নদীগর্ভে যেতে বাকি রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ মিটার দুরে। বসতভিটা এখানকার পদ্মাপাড়ের মানুষ। ইতোমধ্যেই ভাঙন কবলিত অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন। এরই মধ্যে ভেঙ্গে গেছে, এখানকার বিভিন্ন স্থাপনাসহ ক্ষেত খামার ও বাড়িঘর।
পদ্মার ভাঙনে কায়েক হাজার মানুষ আতিঙ্কত হলেও চোখে পড়েনি পাউবো কর্তৃপক্ষের। টেন্ডারকৃত ব্যাগগুলো গণনা ও পরীক্ষার অজুহাতে প্রায় ৪ দিন পদ্মার পাড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। যেকোন মহুর্তে জিওব্যাগগুলো ভাঙনের কবেল পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক।
গতকাল বৃহস্পতিবার বুলনপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বাসিন্দারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পদ্মানদীর বুলনপুর এলাকার ২৫ থেকে ৩০ মিটার দুরে ভাঙ্গতে দেখা গেছে। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে মূল শহররক্ষা বাধ রক্ষা করা যাবেনা বলে এলাকাবাসির মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। এরইমধ্যে ভাঙন এলাকার অনেকে অন্যত্র অবস্থান নিয়েছে।
ভাঙন কবলিত এলাকার সোহরাব হোসেন বলেন, অনেক মানুষের বাড়িঘর পদ্মায় চলে গেছে। এলাকাবাসিকে স্থানীয় প্রতিনিধি ও পাউবোর কর্মকর্তারা ভাঙনরোধ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু এ পর্যন্ত এলাকাবাসি শুধু ভাঙনই দেখছে।
তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকে ভাঙন শহররক্ষা বাধের দিকে ধেয়ে আসলেও পাউবোর কর্মকর্তারা ব্যাগগুলো গণনা করার লোক আসেনি বলে চেয়ে চেয়ে দেখছে। আর মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিটার ভাঙন আসলেই এখান বড় বড় স্থাপনাসহ শহররক্ষা বাধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সবাই শুধু আসে আর চলে যায়। এসব এলাকায় আগে থেকে বালুর ব্যাগ ফেলা হলেও দরিদ্র-গরীবরা মাথা গোজার জায়গা পেত।
এদিকে টেন্ডারকৃত জিওব্যাগগুলো গণনা ও পরীক্ষার অজুহাতে প্রায় ৪ দিন পদ্মার পাড়ে ফেলে রাখা হয়। যার খেসারত দিতে হচ্ছে নদী তীরবর্তী জনগণকে। বিলিন হলো শ্মশানঘাট ও পদ্মাপাড়ের কয়েক হাজার একর জমি। এখনো ভাঙন অব্যহত আছে। জোরে-শোরেই ভাঙছে পদ্মা তীরবর্তী বিস্তৃর্ণ এলাকা।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ জানান, বুলনপুর এলাকার ১৫০ মিটার এলাকা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় মেসার্স কবির হোসেনকে কাজ দেয়া হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে শতকরা ৭০ ভাগ কাজ শেষ করেছেন। বাকি কাজ টাক্সফোর্সের অফিসার তোফায়েল আহম্মেদেও নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে দ্রুত ভাঙণ রোধে জিওব্যাগগুলো নদীতে ডাম্পিং করা হবে।
ঢাকা,২৯ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ





