ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া মিল্ক ভিটার দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়ার প্রতিবেদন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যমূলক। আমরা বিষয়টি নিয়ে মামলা করা প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বিভিন্ন গবেষণায় দেশের তরল দুধের মান নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদনে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা বিভ্রান্তি। জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের। খাদ্যপণ্যের মানের বিষয়ে সাংঘর্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে সরকারের কেন্দ্রীয় সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এছাড়া প্রয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবেও পাঠানো যেতে পারে। আর নমুনা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ব্যাপক হারে অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন কেউ কেউ।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁও মিল্ক ভিটা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্স সেন্টারের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক বলেন, আমাদের এখানে এফডিএ’র মতো একটা ব্যবস্থা দরকার। না হয় চাইলেই সব সমন্বয় করা যাবে না। সরকারি কোঅর্ডিনেশন ব্যবস্থার মধ্যে না আসলে আমরা আটকে যাব।

দেশের খাদ্যপণ্যের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক। এ নিয়ে জনমনে উদ্বেগের কমতি নেই। এবার সেই বিতর্কে যোগ হয়েছে তরল দুধ নিয়ে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবটেরির পরীক্ষায় বাজারে প্রচলিত তরল দুধ এবং দুগ্ধজাত সামগ্রীর বেশিরভাগ নমুনাতেই স্বাস্থ্যর জন্য ক্ষতিকর নানা উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তবে মঙ্গলবার হাইকোর্টে দাখিল করা বিএসটিআই’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮টি প্রতিষ্ঠানের তরল দুধের নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকারক কোনো উপাদানের প্রমাণ মেলেনি।

অন্যদিকে, একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল রিসার্চ সেন্টারের গবেষণার ফলাফল তুলে বলা হয়, পাস্তুরিত দুধের নমুনা পরীক্ষায় মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

দুধের মান নিয়ে সরকারি দুই সংস্থা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ভিন্ন ভিন্ন এমন প্রতিবেদন বিভ্রান্তিতে ফেলেছে সাধারণ মানুষকে। প্রশ্ন উঠেছে, এ অবস্থার সমাধানই বা কী?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরস্পর বিরোধী ফলাফলের বিতর্ক সমাধানে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের জন্য একটি প্রতিষ্ঠান থাকা উচিত। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায়ও যাওয়া যেতে পারে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, কোনো খাদ্যপণ্যের নমুনায় নেতিবাচক ফল পাওয়া গেলে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ব্যাপক হারে অধিকতর যাচাই করা উচিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল রউফ মামুন বলেন, ফলাফলটা যাচাই-বাছাই করে ডেসিমিনিট করতে হবে। কারণ একটা-দুইটা স্যাম্পল পরীক্ষা করে খারাপ পেলেই সারা দেশের স্যাম্পল খারাপ হয়ে গেল কিংবা খারাপ হয়ে আছে সেটা বোঝা যায় না।

অবশ্য দুধের মান পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন সংস্থার সক্রিয় ভূমিকাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদকরা। তারা মনে করেন, মানসম্মত গবেষণা এ খাতকে বিকশিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, আমরা যেন রিসার্স করে কথা বলি এবং আমরা যেন কোনো অযৌক্তিক কথা না বলি, অথবা আমরা যদি টোটাল রিসার্স করে কথা বলি তাহলে মনে হয় সব ইন্ডাস্ট্রির জন্য জিনিসটা ভালো হবে।

যত সুন্দর রিসার্স আসবে, যত সুন্দর ফাইন্ডিং আসবে। আমরা উৎপাদনকারীরা ভোক্তার কাছে আরও সুন্দরভাবে পণ্য পৌঁছে দিতে পারব।

ভোক্তা স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে পণ্যের মান ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানান দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদকরা।


এএস