বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিলে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এর মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হলো।

সোমবার রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করেন বলে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়।

 

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং ১০ দিন পর ১৭ সেপ্টেম্বর ৩২৭ জন সংসদ সদস্যের বিভক্তি ভোটের মাধ্যমে পাস হয় ষোড়শ সংবিধান সংশোধন বিল-২০১৪।

বিল পাসের সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন। সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এই সময় সংসদে ছিলেন।

এ বিলের মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ফিরে পায় সংসদ, যা ১৯৭২ সালের সংবিধানেই ছিলো।

পরবর্তীতে সামরিক ফরমানের মাধ্যমে বিধানটি বাতিল করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়। 

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এখন গেজেট আকারে প্রকাশ হলে বিলটি কার্যকর হবে।

এ সংশোধনীর ফলে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা ৪০ বছর পর আবার সংসদের হাতে ফিরল। এর আগে বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের জানুয়ারি পর্যন্ত তা বহাল ছিল।

 

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন বিল পাস করে। বিএনপির নির্বাচন বর্জনের পর টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসে ৯ মাসের মাথায় ষোড়শ সংশোধন বিল পাস করল।

 

বিলে ‘অসদারচণ ও অসামর্থ্যের’ অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিচারপতিদের অপসারণের বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে ষোড়শ সংশোধনীর আলোকে তদন্ত ও প্রমাণ বিষয়ক আলাদা একটি আইন প্রণয়নেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

বিলটি পাস হওয়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের প্রণীত ১৯৭২ সালের সংবিধানের ’৯৬ অনুচ্ছেদ পুনঃস্থাপিত হবে। ওই অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারককে তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে অপসারণের বিধান ছিল। তবে ওই অনুচ্ছেদে বিচারপতিদের চাকরির বয়স বর্তমান বিধান অনুযায়ী ৬৭ বহাল থাকবে।

ঢাকা, ২২ সেপ্টম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএইচ