ফেনীর ফুলগাজী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে নিজের স্বামীকে হত্যার ভয় দেখিয়ে নির্যাতন করে জোর করে খুনের মামলায় জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ করেছে গৃহবধূ আকলিমা আক্তার।

রোববার ফেনী শহরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আকলিমা জানান, গত ২৪ মে ফুলগাজীর জিএম হাটের পূর্ব বশিকপুরে পাসপোর্ট মুনিরের বাড়ির জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ২৬ মে তার স্বামী ওমর ফারুককে আটক করে পুলিশ।

তিন দিন পর ২৯ মে পুলিশ ফারুককে কোর্টে পাঠায়। ওই সময় পরিবারের লোকজন তার সাথে দেখা করতে গেলে দেখা করতে না দিয়ে পুলিশ ফারুকের স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।

আকলিমা জানান, কোর্ট থেকে জেল হাজতে প্রেরণের পর আমরা তার সাথে দেখা করতে গেলে সে জানায়, পুলিশ ওই তিন দিনে তার পুরুষাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতন করে। এছাড়া তাকে চোখ বেঁধে নানা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় ও হত্যার হুমকি দিয়ে ও হত্যায় জড়িত আছে বলে স্বীকার আদায় করতে বাধ্য করে।

সংবাদ সম্মেলনে ফারুকের স্ত্রী বলেন, কোন আসামিকে আটকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজিরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পুলিশ তার স্বামীকে ৩দিন নির্যাতন করে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করে প্রকৃত হত্যা রহস্য ঢাকার চেষ্টা করছেন। তিনি পুলিশের এই অসাংবিধানিক আচরণের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছেন।

এসময় আকলিমা ছাড়াও তার ৬ বছরের মেয়ে ফাইজা আক্তার জারা, সদ্য প্রসূত ৬ দিন বয়সী সন্তান পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৪ মে ফুলগাজীর জিএমহাটে বিবি ফাতেমা সাথী (২৬) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা মহিলাকে কুপিয়ে ও তার ৫ বছরের মেয়ে ইশমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনার ২দিন পর নিহতের মা হোসনে আরা ফুলগাজী থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওমর ফারুককে আটক করে।

এমএনজে