ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের স্ত্রী মিসেস গুলবদুন্নেছা মতিন বলেছেন, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানী শাষকের ভাষা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন। অসহায়তা-অলসতা ও অন্ধকার ঘূর্ণাবর্তে নিপতিত জাতিকে পাকিস্তানী শোষকদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পথ দেখিয়ে ছিলেন তিনি। ভাষা সৈনিক আজীবন দেশের জন্য, মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, কথা বলেছেন। এক কথায় ভাষা মতিন ছিলেন দুঃসাহসী ও মানবতাবাদী রাজনীতিবিদ।

গুলবদুন্নেছা মতিন গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শিশুকল্যাণ পারিষদ মিলনায়তনে আজীবন আপোষহীন রাজনীতিক ও ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের ২য় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদ আয়োজিত সভায় সভাপতি হিসাবে বক্তব্য রাখছিলেন।

স্মরণ সভা আলোচনায় অংশগ্রহন করেন ভাষা সৈনিক ডঃ জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম, ভাষা সৈনিক আবদুল করিম পাঠান, বিএনপি চেয়াপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট নজমুল হক নান্নু, ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, গণ-সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এস আল মামুন, ভাসানী সাহিত্য-সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, অধ্যক্ষ সালমা আহমেদ হীরা, মনিরুল আলম প্রমুখ। পরিষদের সদস্য ডাঃ এম.এ. মুক্তাদিরের সঞ্চালানায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদের সভাপতি এম.আর. মাহবুব।

ভাষা সৈনিক ডঃ জসিমউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে মানব সমাজের প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন প্রতিভার জন্ম হয়। ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের আবির্ভাবও একটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে বাংলার মানুষকে অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অনুপ্রানীত করেছিলেন।

ভাষা সৈনিক রেজাউল করিম বলেছেন, ভাষা মতিন বাংলার মানুষের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের রাষ্ট্র তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভাষা সৈনিক আবদুল করিম পাঠান বলেছেন, ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন একজন আদর্শ রাজনীতিক। তার প্রথম জীবন থেকেই তিনি সাধারন মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করতেন। তার সংগ্রামী জীবন, বিদ্রোহী চেতনা ঘুমঘোরে আচ্ছন্ন জাতিকে অধিকার আদায়ের অনুপ্রেরনা যোগায়।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট নজমুল হক নান্নু বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শুধু ক্ষমতা রাজনীতির লক্ষ্য নয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাঁর কর্মকান্ডে প্রমান করেছেন।

ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেছেন, ১৯৫২ সালে বাংলা মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বাংলাদেশের স্বাধীকার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৫৭ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী ন্যাপ গঠন করলে তিনি তাঁর পাশে এসে দাড়ান। আমৃত্যু তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায় ও তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবতীর্ণ ছিলেন।

এনডিপি প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদের মানবতাবিরোধী তৎপরতার বিরুদ্ধে রাজনীতির মাধ্যদিয়ে বিদ্রোহের পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন ভাষা মতিন।

গণসাংস্কৃতিক দলের সভাপতি এস. আল মামুন বলেছেন, ভাষা মতিন স্পষ্টত বলতেন উৎপীড়িতের কান্না না থামা পর্যন্ত, সাম্রজ্যবাদী ও লুটেরা শক্তি অত্যাচারী স্তব্ধ না হওয়া অবধি তার সংগ্রাম চলবে।

স্বাগ বক্তব্যে এ.আর, মাহবুব বলেছেন, ভাষা সৈনিক আবদুল মতিনের আপোষহীন রাজনীতি ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলো অত্যাচারী শাসকশ্রেণির, স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তুলেছিলো সাধারণ মানুষকে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল মানুষকেই অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ করার সংগ্রাম করেছেন আজীবন তিনি।

স্মরণসভায় ‘আলোকচিত্রে ভাষা মতিন’ নামক বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

জেড