অক্সফোর্ডের কভিড টিকা নেওয়ার পরও রাজধানী ঢাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়েছেন।

সাজ্জাদ হোসেন নামের ওই স্বাস্থ্যকর্মী স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে কর্মরত। গত ০৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান শুরুর পরদিন তিনি টিকা নেন। এর ১৬ দিনের মাথায় মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

সাজ্জাদ হোসেন বলেন, টিকা নেওয়ার স্থানে প্রথমে ব্যথা এবং পরে জ্বর অনুভব করেন। টানা দু'দিন জ্বর ছিল। তবে প্যারাসিটামল ওষুধ সেবনে তা সেরে যায়। পরে হাসপাতালে কাজে ফেরেন। তিন দিন আগে তিনি আবারও জ্বরজ্বর অনুভব করেন। তাই সোমবার তিনি করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। মঙ্গলবার ওই নমুনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি বাসায় আইসোলেশনে আছেন।

টিকা নেওয়ার পরও সাজ্জাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবরে মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মিটফোর্ড হাসপাতালের কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, করোনার প্রতিষেধক টিকা নেওয়ার পর তারা অনেকটাই স্বস্তিতে ছিলেন। সবাই মনে করেছিলেন, টিকা নেওয়ার পর করোনামুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।

করোনার জাতীয় টিকা বিতরণ সংক্রান্ত কোর কমিটির সদস্য ও আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিষেধক টিকা নিলে কেউ করোনায় আক্রান্ত হবেন না, এমন কোনো নিশ্চয়তা বিজ্ঞানীরা দেননি। টিকা নেওয়ার পর কেউ আক্রান্ত হলে তার সংক্রমণ হবে মৃদু। একই সঙ্গে তার মারাত্মক সংক্রমণ ও মৃত্যুঝুঁকিও কম থাকবে। অর্থাৎ টিকা মৃত্যুঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি মারাত্মক সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করবে।

দেশে গণটিকাদান কর্মসূচির ১৫তম দিনে গতকাল (২৪ ফেব্রুয়ারি) বুধবার টিকা নিয়েছেন আরও ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৮৫ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ১২ হাজার ৯৯ জন এবং নারী ৬৯ হাজার ৮৮৬ জন। এনিয়ে দেশে মোট টিকা নিলেন ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮ জন। এদিন সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টিকা পেতে ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩৪৫ জন নিবন্ধন করেছেন।

এমবি