প্রায় ৬ বছরের গৃহবন্দি জীবন নিয়ে হাঁপিয়ে উঠছিলেন সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
কিন্তু কেন তিনি গৃহবন্দি? সেই প্রশ্নের উত্তর হয়তো অনেকের জানা নেই।
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিয়েছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
কিন্তু এই সাক্ষ্য দেয়ার কিছুদিন পর হারিয়েছেন ছোট ভাইকে। রাজধানীর খিলগাঁও রেললাইনে পাওয়া গিয়েছিল বুলবুলের ভাইয়ের গলাকাটা লাশ। ভাইয়ের মৃত্যু তিনি মেনে নিতে পারেননি।
ভাইয়ের শোক নিয়ে ঘর থেকেই বের হতেন না সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল। নিরবে নিভৃতে কাটিয়েছেন জীবনের শেষ দিনগুলো। এর মধ্যে আসে তারও মৃত্যুর হুমকি। এরপর থেকে সরকারি নিরাপত্তার বলয়ে বাঁধা পড়েন তিনি।
শুরু হয় শারীরিক অসুস্থতা। তার হৃদযন্ত্রে ৮টি ব্লক ধরা পড়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তবে সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে তিনি এখন সবার থেকে অনেক দূরে।
আজ (২২ জানুয়ারি) মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মৃত্যুবরণ করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
প্রায় ৬ বছরের গৃহবন্দি জীবন নিয়ে হাঁপিয়ে উঠছিলেন এই সংগীত পরিচালক। তার সঙ্গী বলতে ছিল একমাত্র পুত্র সামির ও একান্ত সহকারী রোজেন। গান তেমন নিয়মিত করতেন না। গানের মানুষদের সাথেও আড্ডা বা মেলামেশা কমে গিয়েছিল।
যখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, গৃহবন্দি থেকে মুক্ত মনে হয় কি না জানতে চাইলে গণমাধ্যমে বুলবুল হতাশা নিয়ে বলেছলিন, “আমার গৃহবন্দি জীবন অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন আর কিছু মনে হয় না। আপনি তো ভালোভাবে বোঝেন যে, হার্টের চিকিৎসার পর আবার কিন্তু এই চার দেয়ালের মধ্যেই আসতে হবে। এটা কিন্তু সমাধান না। তাই না? আপনারা হার্টটা ঠিক করে আবার এই জায়গাটায় পাঠিয়ে দেবেন, হার্টটা আবার নষ্ট হবে। আপনারা মুক্ত করে দেন।”
গত ২ জানুয়ারি ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে নিজেকে সর্বশেষ ভক্ত-শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।
কলকাতা থেকে ঢাকা ফিরে এয়ারপোর্টে বসে তার তোলা ছবিটি তিনি পোস্ট করেন। ছবির ক্যাপশনে বুলবুল লিখেছিলেন, “আমাকে যেন ভুলে না যাও… তাই একটা ছবি পোস্ট করে মুখটা মনে করিয়ে দিলাম।”
এমবি





